১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:৪৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২১
হেরেই গেল বাংলাদেশ। স্বপ্নভঙ্গ হলো সেমি ফাইনালের। ১৪৩ রানের টার্গেটও ছুঁতে পারল না মাহমুদউল্লাহ বাহিনী। লিটন দাস আজ কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন বটে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৪৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। কিন্তু শেষ বলে দরকার ছিল ৪ রান। স্ট্রাইকে খোদ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। একটি চার আসলেই টিকে থাকত বাংলাদেশের বিশ্বকাপের সেমির স্বপ্ন। কিন্তু না। সব ধূলিস্যাত হয়ে গেল রাসেলের এক ডটে। তিন রানের জয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কাগজে কলমে টিকে থাকলেও বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হলো বলতে গেলে আজই।
সুপার টুয়েলভের ডু অর ডাই ম্যাচে বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৪২ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ৫ উইকেটে ১৩৯ রানে থামে বাংলাদেশ।
চ্যালেঞ্জিং টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা আশাজাগানিয়া। ওপেনিংয়ে আসে পরিবর্তন। লিটনের পরিবর্তে নাঈমের সঙ্গে নামে সাকিব আল হাসান। এই টোটকা অবশ্য কাজে দেয়নি। দলীয় ২১ রানে ছন্দপতন। পড়ে প্রথম উইকেট। ১২ বলে ৯ রান করে রাসেলের বলে হোল্ডারের হাতে ক্যাচ দেন সাকিব। সাকিবের বিদায়ের পর নাঈমও সাজঘরে। হোল্ডারের লাফিয়ে ওঠা বল কাট করতে গিয়ে নিজের স্টাম্প ভাঙেন তিনি, বোল্ড। ১৯ বলে তার সঙগ্রহ ছিল ১৯ রান। ওপেনিং জুটিতে নেই কোন ছক্কা। নাঈম দুটি ও সাকিব হাকান একটি করে চার।
পাওয়ার প্লেতে ৬ ওভারে বাংলাদেশের রান ২৯, দুই উইকেটে। তৃতীয় উইকেট জুটিতে হাল ধরার চেষ্টা করেন লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। দুজনে ভালোই আগাচ্ছিলেন। দলীয় ৬০ রানে ভাঙে এই জুটি। আকিলার বলে বাউন্ডারি লাইন থেকে ঝাপিয়ে ক্যাচ নেন গেইল। ১৩ বলে ১৭ রান করে ফেরেন সৌম্য সরকার। তার ইনিংসে ছিল দুটি চারের মার।
দলকে জয়ের পথে রাখার চেষ্টা করেন এরপর লিটন দাসের সঙ্গে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীম। এই জুটি দলকে নিয়ে যান ৯০ রান পর্যন্ত। রান আসলেও মুশফিক ছিলেন ব্যাক ফুটে। স্কুপ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত ৮ রানের মাথায় তিনি বোল্ড হন রামপালের বলে। ৯০ রানে চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ, ওভার ১৩.৩।
লিটনের নতুন সঙ্গী তখন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। টানা দুই ওভারে সিঙ্গেলের পাশাপাশি দুটি চার মেরে বাংলাদেশকে কক্ষপথে রাখার চেষ্টা করেন টাইগার অধিনায়ক। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচের ১৯তম ওভারে বিদায় নেন লিটন দাস। ৪৩ বলে চারটি চারে ৪৪ রান করেন তিনি।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৩ রান। মাহমুদউল্লাহ ও আফিফ নিতে পারেন ৯ রান। ৩ রানের হারে বিশ^কাপ মিশন শেষ হয় বাংলাদেশের।
এর আগে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে তৃতীয় ওভারে রান আউটের সুযোগ নষ্ট করে বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমানের বল আলতো ব্যাটে পয়েন্টের দিকে ঠেলেই রান নিতে ছোটেন গেইল। মাঝ পিচ থেকে তাকে ফিরিয়ে দেন এভিন লুইস। বল তখন ফিল্ডার সাকিবের হাতে। ফেরার সময় নেই দেখে হাল ছেড়ে দেন গেইল। কিন্তু অনেক সময় পেয়েও সরাসরি থ্রো স্টাম্পে লাগাতে ব্যর্থ সাকিব।
তবে একই ওভারে দলের হয়ে প্রথম উইকেট এনে দেন মুস্তাফিজই। ফেরান ওপেনার এভিন লুইসকে। বেশির ভাগ ডেলিভারি স্লোয়ার বা কাটারে নিলেও মুস্তাফিজের এই ডেলিভারি ছিল সিম-আপ ডেলিভারি। লেংথ ডেলিভারিটিকে গায়ের জোরে উড়িয়ে মারেন লুইস। ব্যাটের কানায় লেগে বল ওঠে কেবল ওপরে। ছুটে আসেন তিনজন ফিল্ডার, শেষ পর্যন্ত স্কয়ার লেগ থেকে এসে ক্যাচ জমান মুশফিক। ৯ বলে ৬ রানে ফেরেন লুইস। চতুর্থ ওভারে মাঠের হ্যামস্ট্রিংয়ের টানের কারণেই হয়তো মাঠ ছাড়েন সাকিব। শুশ্রুষা নিয়ে তিনি আবার মাঠে ফেরেন ষষ্ঠ ওভারে।
ভয় ছিল গেইলকে নিয়ে। ভাগ্য ভালো জ¦লে উঠতে পারেননি ক্যারিবীয় এই ব্যাটিং দানব। তাকে ফেরান স্পিনার মেহেদী হাসান। রান না পেয়ে হাঁসফাঁস করছিলেন গেইল। রাউন্ড দা উইকেটে করা মেহেদির স্টাম্প সোজা বল পা বাড়িয়ে উড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন, ফলাফল বোল্ড। ১০ বলে ৪ রান সম্বল ইউনিভার্স বসের। পাওয়ার প্লেতে উইন্ডিজের রান ২৯।
সপ্তম ওভারে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ ছাড়েন মেহেদী। ব্যক্তিগত ৯ রানে বেচে যান রোস্টন চেইস। অবশ্য পরের বলেই নিজের প্রায়শ্চিত্ত করেন মেহেদী। গায়ের জোরে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অফে সৌম্যর হাতে ধরা পড়েন হার্ড হিটার শিমরান হেটমায়ার (৭ বলে ৯)।
দশম ওভারে প্রথম বল হাতে তুলে নেন সাকিব। রান দেন চার। ১০ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৩ উইকেটে ৪৮ রান। ১৩তম ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে একটি সিঙ্গেল নেওয়ার পর হুট করেই ড্রেসিং রুমের দিকে হাঁটা দেন কাইরন পোলার্ড। যাকে বলে রিটায়ার্ড হার্ট। ১৬ বলে তার রান ৮।
এরপর অবশ্য টিকতে পারেননি আন্দ্রে রাসেল। কোন বল না খেলেই ক্যারিবীয় এই হিটার বিদায় নেন রান আউট হয়ে। পোলার্ড বেরিয়ে যাওয়ার পর উইকেটে যান রাসেল, তবে নন স্ট্রাইক প্রান্তে তিনি। স্ট্রাইকে থাকা রোস্টন চেইস সোজা ব্যাটে ড্রাইভ করেন তাসকিনের বল। তাসকিন পা দিয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন বল। বল তার বুটে লেগে গিয়ে আঘাত করে অন্য প্রান্তের স্টাম্পে। রাসেল তখন ক্রিজের বাইরে।
রান বাড়াতে চেষ্টা করেন চেইস। ব্যক্তিগত ৯ রানের পর আবার জীবন পান চেইস। তখন তার রান ২৭। সাকিবের বলে তিনি ক্যাচ দিলেও তা লুফে নিতে পারেনি মেহেদী হাসান। মিড উইকেটে হাত ফসকে মাথার উপর দিয়ে চলে যায় বল।
শেষের দিকে সময়ের দাবিতে কয়েক ছক্কা হাকিয়ে ঝড় তোলেন নিকোলাস পুরান। ১৮.১ ওভারে শরিফুলের বলে নাঈমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার আগে করে যান ২৩ বলে এক চার ও চার ছক্কায় ৪০ রানের ক্যামিও ইনিংস। পরের বলেই শরিফুল বোল্ড করেন রোস্টন চেইসকে। ৪৬ বলে দুই চারে তিনি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস।
১৯তম ওভারে শরিফুল দেন মাত্র তিন রান। ডেথ ওভারে চমৎকার বোলিং। শেষ ওভারের শুরুটা ভালো করেছিলেন মুস্তাফিজ। প্রথম বলেই ফেরান এক রান করা ডুয়াইন ব্রাভোকে। তবে পরের দুই বলে দুই ছক্কা হাকিয়ে স্কোর বাড়ান দলে ফেরা জেসন হোল্ডার। শেষ বলেও হাকান তিনি ছক্কা। শেষ ওভারে তিন ছক্কায় মোটামুটি চ্যালেঞ্জিং স্কোরে গিয়ে দাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
৫ বলে ১৪ রানে হোল্ডার ও রিটায়ার্ড হার্ট থেকে ফিরে ১৮ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন কাইরন পোলার্ড। বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন মেহেদী হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম। ৪ ওভারে ২৮ রান দিলেও উইকেটশূন্য সাকিব আল হাসান। দলে ফিরে উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়েছেন পেসার তাসকিন আহমেদ।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D