৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০২৬
বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন গন্তব্য হিসেবে ইউরোপের সেনজেনভুক্ত দেশ পর্তুগালের প্রতি বাংলাদেশিদের আগ্রহ বাড়ছে। দেশটিতে শ্রমিক সংকট তীব্র হওয়ায় বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পর্তুগালে নির্মাণশিল্প, কৃষি, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পরিবহন এবং কারখানা খাতে সবচেয়ে বেশি কর্মীর চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অন্যান্য উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাতেও বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কর্মী সংকট, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সরকারের সহায়ক নীতির কারণে পর্তুগাল বিদেশি কর্মীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটি একটি সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে প্রার্থীদের সঠিক দক্ষতা অর্জন, ভাষাজ্ঞান এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় অভিবাসনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রবাসীরা সাধারণত দুটি উপায়ে দেশটিতে চাকরির সুযোগ খুঁজে থাকেন। প্রথমত, বাংলাদেশের শিক্ষাগত সনদকে পর্তুগিজ সমমান সনদে রূপান্তর বা ইকুইভ্যালেন্স করে চাকরির জন্য আবেদন করা যায়। এজন্য আবেদনকারীর বৈধ রেসিডেন্স পারমিট থাকা জরুরি। কারণ অধিকাংশ ইউরোপীয় কোম্পানি চাকরিপ্রার্থীর পর্তুগালে কাজের অনুমতি রয়েছে কিনা, তা যাচাই করে থাকে।
ইকুইভ্যালেন্স প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকরা ডক্টরেট, মাস্টার্স ও ব্যাচেলর ডিগ্রির সমমান স্বীকৃতির জন্য আবেদন করতে পারেন। এজন্য সনদপত্র পর্তুগিজ ভাষায় অনুবাদ, নোটারি এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন প্রয়োজন হয়।
এছাড়া পর্তুগালের কোনো নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে অফার লেটার পাওয়ার পরই সাধারণত ওয়ার্ক ভিসার আবেদন করা যায়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় বৈধ পাসপোর্ট, চাকরির চুক্তিপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও জীবনবৃত্তান্ত। কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আবাসনের প্রমাণও জমা দিতে হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, অনেক চাকরিতে ইংরেজিতে মৌলিক যোগাযোগ দক্ষতা থাকলেই সুযোগ পাওয়া যায়। তবে পর্তুগিজ ভাষাজ্ঞান থাকলে চাকরি পাওয়া এবং কর্মপরিবেশে খাপ খাওয়ানো সহজ হয়।
বেতন কাঠামোর দিক থেকে সাধারণ কাজের ক্ষেত্রে মাসিক আয় ৯২০ থেকে ১ হাজার ইউরোর মধ্যে হয়ে থাকে। অন্যদিকে দক্ষ কর্মীদের আয় ১২০০ থেকে ৩ হাজার ইউরো বা তার বেশি হতে পারে।
তবে বিদেশে চাকরির এই সুযোগকে কেন্দ্র করে প্রতারণার ঝুঁকিও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, ভুয়া দালাল বা অবৈধ এজেন্সির মাধ্যমে চাকরির প্রলোভনে পড়ে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই সরাসরি কোম্পানির ওয়েবসাইট বা নির্ভরযোগ্য জব পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পর্তুগালের ভিসা নীতিতে কিছু পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ‘জব সিকার’ ভিসা সীমিত হওয়ায় আগে থেকেই চাকরি নিশ্চিত করে আবেদন করার প্রবণতা বেড়েছে।
পর্তুগালে অধ্যয়নরত এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বলেন, ‘শুরুর সময়টা কঠিন ছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের সহযোগিতা ও ধৈর্যের কারণে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। লিংকডইন প্রোফাইল গুছিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করি। অনেকবার প্রত্যাখ্যাত হলেও হাল ছাড়িনি। বর্তমানে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করছি।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন এবং বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারলে পর্তুগাল বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D