সিলেট বিসিক শিল্প নগরীর ভেতর দিয়ে রুস্তমপুর আবাসিক এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি সড়ক বন্ধের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রাস্তা বন্ধের প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা বৃহস্পতিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের অনুমতির কথা উল্লেখ করে বিসিক কর্তৃপক্ষ দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে সড়কটি বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে রুস্তমপুর এলাকার হাজারো মানুষের চলাচল ব্যাহত হবে বলে দাবি করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এই সড়ক ব্যবহার করে আসছেন। হঠাৎ করে রাস্তা বন্ধ করে দিলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
তারা জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় অন্তত চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি শিশুদের নিরাপদ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিভাবকেরা।
বক্তারা আরও বলেন, “সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি জনসাধারণের রাস্তা বন্ধের সিদ্ধান্ত অমানবিক ও জনস্বার্থবিরোধী।”
মানববন্ধনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা রাস্তা বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং সড়কটি উন্মুক্ত রাখার দাবি জানান। পাশাপাশি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, রুস্তমপুর একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। সেখানে কয়েক হাজার মানুষের বসবাসের পাশাপাশি মসজিদ, মাদ্রাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিসিক কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বা সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অজুহাতে দীর্ঘদিনের চলাচলের প্রধান পথ বন্ধ করতে চাইছে। এতে সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা স্মারকলিপির বরাত দিয়ে বলেন, এলাকাবাসী রাস্তা পুরোপুরি বন্ধের বিরোধিতা করলেও প্রয়োজনে অন্তত ১০ থেকে ১২ ফুট প্রশস্ত রাস্তা চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিল্প উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মৌলিক চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে বিসিক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, দ্রুত সমাধান না এলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দেবেন।

