১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:০১ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২০
সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তার মৃত্যুতে তিনদিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন।
সোমবার (১৫ জুন) এক শোক বার্তায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মতো একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ, একজন দক্ষ জনপ্রতিনিধিকে হারিয়ে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তিনি সিলেট পৌরসভা ও সিলেট সিটি করপোরেশেনের বারবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসাবে নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।
মেয়র বলেন, করোনা আক্রান্ত হবার আগ পর্যন্ত তিনি একজন রাজনীতিক হিসাবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নগরজুড়ে। বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মরদেহ দীর্ঘদিনের কর্মস্থল সিলেট সিটি করপোরেশনে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য আনার চেষ্টা করলেও সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধির কারণে প্রশাসন সে অনুমতি দেয়নি।
এ্ অবস্থায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান, যার যার অবস্থান থেকে বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করার জন্য। শোক বার্তায় মেয়র বিদেহীর রুহের মাগফেরাত কামনা এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এদিকে সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে সিলেট সিটি করপোরেশনে তিনদিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। শোক কর্মসূচির আওতায় সিসিকের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। বন্ধ থাকবে সকল দাপ্তরিক কার্যক্রম।
রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বদরউদ্দিন আহমদ কামরান মারা যান।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৭টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে থেকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে কামরানের মরদেহ নিয়ে সিলেটের পথে রওনা হয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের দুটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমটি তার নিজ এলাকায় ছড়ারপাড় জামে মসজিদে। আর দ্বিতীয়টি মানিকপীর (র.) এর কবরস্থানে, যেখানে তাকে দাফন করা হবে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের টানা দুইবারের মেয়র কামরান গত ৫ জুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। পরদিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার শরীর আরও খারাপ হলে ৭ জুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৮ জুন কামরানের শরীরে প্লাজমা থেরাপিও দেওয়া হয়েছিলে।
তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সোমবার ভোরে মারা যান সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক এই সভাপতি।
গত ২৭ মে কামরানের স্ত্রী আসমা কামরানেরও করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। তিনি অনেকটা সুস্থ রয়েছেন এবং বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, সিলেট পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ কমিশনার নির্বাচিত হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন কামরান। এরপর থেকেই রাজনীতিতে তার উত্থান পর্ব শুরু। ১৯৬৯ এর উত্তাল সময়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি কামরানের। ১৯৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র থাকা অবস্থায় সিলেট পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ কমিশনার হয়ে চমক দেখান তিনি। সেই থেকেই সিলেট পৌরসভার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়েন। টানা ১৫ বছর ছিলেন পৌরসভার কমিশনার। মাঝখানে প্রবাসে থাকায় একবার নির্বাচন থেকে বিরত ছিলেন। ফিরে এসে ১৯৯৫ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন হলে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পান কামরান।
২০০৩ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন তিনি। ওয়ান ইলেভেনের সময় দুই বার কারাবরণ করতে হয় এই নেতাকে। ২০০৮ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় নির্বাচনে লড়ে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন। তবে সর্বশেষ দুটি সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চোধুরীর কাছে হেরে যান তিনি।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D