গোলাপগঞ্জে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ প্রবাসী নারীর

প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২০

গোলাপগঞ্জে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ প্রবাসী নারীর

সিলেটের গোলাপগঞ্জে স্বজনদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ করেছেন প্রবাসী নারী।যুক্তরাজ্য থেকে সন্তানদের নিয়ে দেশে আসলেও স্বামীর সৎ ভাইদের অত্যাচার ও হত্যার হুমকীতে প্রাণভয়ে নিজ বাড়িতে যেতে পারছেন না। দেশে এসে সন্তাদের নিয়ে তাকে আশ্রয় নিতে হয়েছে পিত্রালয়ে। গত ২০ বছর ধরে এ অবস্থা চলে আসলেও স্বামীহারা ভোক্তভোগী প্রবাসী নারী নিজের বাড়িঘরে যেতে পারছেন না।

বুধবার (১০ জুন) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের উপর বারকোট গ্রামের প্রবাসী মরহুম আকরাম মিয়ার যুক্তরাজ্য প্রবাসী স্ত্রী তৌমুননেছা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে তার স্বামী যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেন। তিনি ১৯৯৯ সালে মারা যান। পিতৃহারা ২ ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করে আসছেন। তার স্বামীও জীবদ্দশায় দেশের প্রতি ছিল আলাদা টান। তিনি আজ বেঁচে নেই। দেশে রেখে গেছেন তার স্মৃতিচিহ্ন ভিটেমাটি। কিন্তু নিজ দেশে আজ তারা পরবাসী। বাড়ি-ঘর জমিজমা থাকলেও সৎ দেবরদের কারণে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে যেতে পারছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বাড়ি ও জমিজমাসহ তার স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০ কেদারের উপরে (১ হাজার শতক)। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই সৎ দেবর ছাবুল মিয়া ও ছবুল মিয়া এবং তাদের সন্তানসহ সহযোগীরা সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছে। বাড়ির গাছ গাছালি ও জমিতে ধান ফলিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। তারা সম্পত্তি নিজেদের করে নিতে কুঠি জরিপে নিজেদের নাম অন্তভূক্ত করেছে। যা কয়েকবার দেশে এসে ঠিক করেছি। সম্পদ দেখাশোনা করার জন্য নিকটাত্মীয় নিছাই মিয়াকে দায়িত্ব দিলে তারা তাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে বার বার। আমরা যুক্তরাজ্যে থাকাবস্থায় ছাবুল ও তার তিন ছেলে ফোন করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে অনবরত হত্যার হুমকি দিয়ে আাসছে। তাদের কথায়, সম্পদের মায়া ছেড়ে যুক্তরাজ্যেই থাকতে হবে। আর দেশে আসলে সন্তানদেরসহ তাকে হত্যা করা হবে, অভিযোগ তৌমুননেছার। এছাড়া যুক্তরাজ্যে থাকা আরেক সৎ দেবর ছবুল মিয়া দেশে তার ভাইদের কুটচাল দিয়ে চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, সন্তানরা বড় হয়েছে। আমরা প্রবাসে থাকলেও চির জীবনতো থাকবো না। দেশে আসতেতো হবেই। কেবল সম্পদের জন্য স্বামীর সৎ ভাই ও তাদের সন্তানরা পরম শত্রু বনে গেছে। তারা সুযোগ পেলেই আমাদের বড় ধরণের ক্ষতি করে ফেলবে। সম্পত্তির উপর যেতে হলে তাদের কন্ডিশন মেনে অর্ধেক তাদের নামে লিখে দিতে বায়না ধরেছে। কিন্তু অন্যায়ের প্রতিবাদ স্বরূপ একজন নারী হয়েও হাল না ছেড়ে প্রতিবাদ করে যেতে চাই। অন্যায়ভাবে সিকিআনা সম্পদও তাদের দিতে চাইনা বলেন তৌমুননেছা।

তৌমুননেছার অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় অনেক সালিশ বিচার করালেও স্থানীয়দের ম্যানেজ করে ফেলে। জীবদ্দশায় ২০১৬ সালে তার স্বামী মসজিদে ৭ শতক জায়গা দিয়ে গেলেও ছাবুল গংরা মসজিদ কমিটির সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। গত ২০ বছর ধরে জমির ধান, বাড়ির গাছগাছালি, ফসল লুট করে নিচ্ছে। লুন্ঠনকৃত সম্পদের মূল্য কয়েক কোটি টাকা হবে, যা তারা বিক্রি করে ভোগ করে আসছে। তাছাড়া তার নিযুক্ত আমোক্তার ছাড়াও আরেক আত্মীয় মছন মিয়া ও তার এক ভাই পক্ষে থাকলেও তারই ভাই নুরুল, মাহমুদ রুমন ও তাদের মা ছাবুল মিয়াদের পক্ষে কাজ করছেন। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময় এলাকার জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হলেও কোন বিচার পাননি। সম্প্রতি সন্তানকে নিয়ে দেশে আসলেও বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছে তাকে। গত ৬ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় তার আমোক্তার নিছাই মিয়ার উপর হামলা করে ছাবুল মিয়াগংরা। এ ঘটনায় ৮ জুন আহতের ছেলে শিপুর আহমদ গোলাপগঞ্জ থানায় ম্মালা (নং-০৬ (৬)২০২০) দায়ের করেন। ওই মামলায় তার স্বামীর সৎ ভাই ছাবুল মিয়া, তার ছেলে টিপু মিয়া, তার সহযোগী ছানু মিয়ার ছেলে শেখরুল ইসলাম, আফরোজ মিয়া, মছলু মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম, রুমন আহমদ, নুরমান মৃত সোনা মিয়ার ছেলে ছানু মিয়া এবং ছাবুল মিয়ার ছেলে আরিফ আহমদ ছালেক মিয়ার ছেলে বেবলু মিয়াসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়। ছাবুল মিয়ার হুকুমে শেখরুলসহ অন্যরা একজোট হয়ে হামলা চালিয়ে নিছাই মিয়াকে গুরুতর জখম করে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে সেলিম আহমদ ও ছাবু আহমদ গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা ছাবু আহমদের পায়ের রগ কেটে দেয়।

নিজেকে রেমিটেন্স যোদ্ধা দাবি করে তৌমুননেছা বলেন, অনেকবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সবকিছুর মায়া ত্যাগ করে যুক্তরাজ্যে চলে যাবো। কিন্তু সিদ্ধান্ত বদলে নিয়েছি। অপরাধীকে ছাড় দেওয়া যাবে না। আইনীভাবে মোকাবেলা করতে চাই। তারা প্রস্তাব দিচ্ছে কন্ডিশনে যাওয়ার। কিন্তু অপরাধীদের কাছে হার মানবো না। তাছাড়া আমরা প্রবাসীরা দেশের ক্রান্তিকালেও সহযোগীতা দিয়ে সরকারের হাতকে শক্তিশালী করে থাকি। কিন্তু নিজ দেশে আজ অসহায়। নিজের সম্পদ ফিরে পেতে সরকারের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট