সিলেটে হামের লক্ষণ নিয়ে চার মাসের শিশুর মৃত্যু, ওসমানীতে আইসোলেশন ইউনিট চালু

প্রকাশিত: ৪:৪২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০২৬

সিলেটে হামের লক্ষণ নিয়ে চার মাসের শিশুর মৃত্যু, ওসমানীতে আইসোলেশন ইউনিট চালু

সিলেটে হামের লক্ষণ নিয়ে চার মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেটে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।

মৃত শিশু ব্রঙ্কোনিউমোনিয়া বা ফুসফুস সংক্রমণে ভুগে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান।

তিনি জানিয়েছেন, আজ দুপুর ১টার দিকে হামের লক্ষণ নিয়ে শিশুটি মারা যায়। ল্যাব পরীক্ষা শেষে রিপোর্ট আসলে হাম কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, দুই দিন আগে হামের উপসর্গ ও হৃদযন্ত্রের জটিলতা নিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে তার মৃত্যু ঘটে।

এদিকে, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১০ শয্যার একটি আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে হাম রোগের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে আক্রান্ত রোগীদের আলাদা রেখে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া যায়।

জানাযায়, গেল কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে, যা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, আইসোলেশন ইউনিট চালুর ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং অন্যান্য রোগীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চিকিৎসক ও নার্সদের বিশেষভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিলেট বিভাগে হাম ও রুবেলার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬ জন রোগী ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ৪৪ জন সন্দেহজনক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১০১ জন সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬২ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৩৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট