১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২৬
মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান : দেশব্যাপী তীব্র তাপপ্রবাহ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য সামনে রেখে পুনরায় অনলাইন ক্লাসের ধারণাটি আলোচনায় এসেছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নানাবিধ বিধিনিষেধ আরোপের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভার্চুয়াল পাঠদানের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এই পদ্ধতি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কতটা কার্যকর হবে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব কী হতে পারে তা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাস চালু করলে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় কিছুটা সম্ভব। বড় বড় ক্যাম্পাসগুলোতে এসি, ফ্যান ও লাইট বন্ধ থাকলে জাতীয় গ্রিডে চাপ কমবে। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। লাখ লাখ শিক্ষার্থী যখন বাড়িতে বসে ডিভাইস ও ফ্যান ব্যবহার করবে, তখন আবাসিক পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। ফলে সামগ্রিকভাবে সাশ্রয়ের পরিমাণ খুব একটা সন্তোষজনক নাও হতে পারে। অনলাইন ক্লাসের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ‘লার্নিং লস’ বা শিখন ঘাটতি।
করোনাকালীন অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে:
গ্রাম ও শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইন্টারনেটের গতি ও ডিভাইসের প্রাপ্যতা নিয়ে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।
দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে বসে থাকায় শিক্ষার্থীদের চোখের সমস্যা, মাথাব্যথা এবং একঘেয়েমি তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক মেলামেশার সুযোগ কমে যাওয়ায় তাদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিজ্ঞান বা কারিগরি বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাবরেটরি বা ব্যবহারিক ক্লাস ছাড়া শুধু অনলাইনে শিক্ষা গ্রহণ করা প্রায় অসম্ভব।
সরাসরি শিক্ষকের সান্নিধ্য না থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্লাসে মনোযোগ হারিয়ে ফেলে এবং পাঠদানে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
একজন অভিভাবক বলেন, অনলাইন ক্লাস মানেই হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া। এতে পড়াশোনার চেয়ে গেমস বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তি বেশি বাড়বে। বিদ্যুৎ বাঁচানোর চেয়ে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ বাঁচানো বেশি জরুরি।
অন্যদিকে, শিক্ষকরা বলছেন যে একটি ক্লাসরুমে যে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়, জুম বা গুগল মিটে তা সম্ভব নয়। লোডশেডিংয়ের কারণে অনলাইন ক্লাসও অনেক সময় বিঘ্নিত হয়, যা শিক্ষার ধারাবাহিকতা নষ্ট করে।
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা জরুরি হলেও শিক্ষার বিনিময়ে তা কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার অবকাশ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, অনলাইন ক্লাসের দিকে না ঝুঁকে বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সময়সূচি পরিবর্তন করে বা গরমের তীব্রতা কমার অপেক্ষা করে সরাসরি পাঠদান অব্যাহত রাখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে দেশ এক বিশাল মেধা সংকটের মুখে পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অনিশ্চিত খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। এ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে, যার ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশের উপকূলেও।
সরকারকে বিপুল অংকের ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি আমদানি সচল রাখতে হচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক বাজেটের ওপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় নীতি বা কৃচ্ছ্রসাধন পদক্ষেপ অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়ের দাবি। কিন্তু নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে যখন ইঙ্গিত আসে এ সাশ্রয়ের প্রথম বলি হবে শিক্ষা খাত-বিশেষ করে মহানগর এলাকার স্কুল-কলেজগুলোয় সপ্তাহে তিনদিন অনলাইন ক্লাসের পরিকল্পনা। তখন নাগরিক সমাজ ও শিক্ষাবিদদের মনে তীব্র শঙ্কার সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন জাগে, যেকোনো জাতীয় সংকটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন প্রথম লক্ষ্যবস্তু বা ‘সফট টার্গেট’ হিসেবে বেছে নেয়া হয়? শিক্ষা ব্যবস্থাকে বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার গিনিপিগ বানানো কি একটি জাতির ভবিষ্যতের জন্য চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নয়?
একে তো করোনাকালীন দীর্ঘ আড়াই বছরের স্থবিরতা শিক্ষার্থীদের শিখনে যে অপূরণীয় ক্ষতি করেছে, তার রেশ এখনো কাটেনি। আবার বছরের প্রথম তিন মাসে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, জাতীয় নির্বাচন এবং রমজানের ছুটির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ‘লার্নিং লস’ বা শিখন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকার স¤প্রতি ১০ সপ্তাহ ধরে শনিবারও ক্লাস চালু রাখার যে সাহসী ও প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নতুন এ অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাব সে অর্জনকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দেবে। একদিকে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা, অন্যদিকে সপ্তাহে তিনদিন অনলাইন ক্লাসের নামে প্রতিষ্ঠান কার্যত অচল রাখা। এ দ্বিমুখী নীতি নীতিনির্ধারকদের দূরদর্শিতার অভাবকেই ফুটিয়ে তোলে।
অনলাইন ক্লাসের কার্যকারিতা নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়। করোনাকালে আমরা দেখেছি, ডিজিটাল বিভাজন কীভাবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে। মহানগর এলাকায় উচ্চবিত্ত বা উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা হয়তো দ্রুতগতির ইন্টারনেট এবং আধুনিক ডিভাইসের সুবিধা পায়, কিন্তু একই মহানগরের বস্তি এলাকা বা নিন্মবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য একটি স্মার্টফোন বা ডেটা প্যাক কেনা বিলাসিতার নামান্তর। তদুপরি বাংলাদেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো এখনো এতটাই নাজুক যে জুম বা গুগল মিটে নিরবচ্ছিন্ন ক্লাস করা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিংয়ের সমস্যা তো রয়েছেই। ফলে অনলাইন ক্লাস মানেই অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য নামমাত্র হাজিরা, যা প্রকৃত শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে যে মিথস্ক্রিয়া এবং সামাজিকীকরণের সুযোগ থাকে, তা কোনো পর্দার মাধ্যমেই প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।
জ্বালানি সাশ্রয়ের যে অজুহাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে নেয়ার কথা বলা হচ্ছে, তার গাণিতিক ভিত্তিও বেশ নড়বড়ে। মহানগর এলাকার পরিবহন ব্যবস্থার দিকে তাকালে দেখা যায়, সিংহভাগ শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে রিকশায়। বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের সব মহানগর এলাকায় যে রিকশাগুলো চলে, তার অধিকাংশই ব্যাটারিচালিত। এ রিকশাগুলো বিদ্যুতে চার্জ হয়, যা সরাসরি জ্বালানি তেল (অকটেন বা ডিজেল) ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত নয়। যারা ব্যক্তিগত গাড়িতে বা স্কুল বাসে যাতায়াত করে, তাদের সংখ্যা মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় নগণ্য। এখন প্রশ্ন হলো, এ সামান্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর যাতায়াত বন্ধ করে সরকার আসলে কতটুকু জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারবে? এর বিপরীতে অনলাইন ক্লাসের জন্য যে লাখ লাখ স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও রাউটার ঘণ্টার পর ঘণ্টা সচল থাকবে, তাতে কি বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে না? জ্বালানি সাশ্রয় করতে গিয়ে যদি আমরা এক প্রজন্মের শিক্ষাজীবন ধ্বংস করি, তবে সে লাভ-ক্ষতির সমীকরণ কোনোভাবেই দেশের পক্ষে যাবে না।
সরকার বলছে, এক জরিপে ৫৫ শতাংশ মানুষ অনলাইন ক্লাসের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ পরিসংখ্যানের গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ রয়েছে। প্রশ্ন জাগে, জরিপটি কি কেবল প্রযুক্তিবান্ধব একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর ওপর চালানো হয়েছে? যারা দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন বা যাদের সন্তানরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে, তাদের মতামত কি এ জরিপে প্রতিফলিত হয়েছে? বাংলাদেশে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সবসময় সক্রিয় থাকে যারা চায় না শিক্ষা ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকুক। সংকটের অজুহাত পেলেই তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অনলাইনে নেয়ার সুপারিশ করতে থাকে। সরকারকে বুঝতে হবে, মহলটি দেশের মঙ্গল চায় নাকি শিক্ষাকে পঙ্গু করে দিতে চায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি এ মহলের প্রেসক্রিপশনে চলে, তবে তা দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে।
জ্বালানি সংকটের প্রকৃত সমাধান খুঁজতে হলে সরকারকে আমলাতন্ত্র ও বিলাসিতার দিকে নজর দিতে হবে। জ্বালানি সাশ্রয়ের অসংখ্য বিকল্প ক্ষেত্র অবহেলায় পড়ে আছে। প্রথমত, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রটোকল ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে যে বিশাল পরিমাণ জ্বালানি ব্যয় হয়, সেখানে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা জরুরি। যুগ্ম সচিব পর্যায় পর্যন্ত সরকারি গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহার বন্ধ করা এবং তেলের রেশন কমিয়ে আনা হতে পারে একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ। দ্বিতীয়ত, দেশের শপিং মল, সরকারি ও বেসরকারি অফিস এবং বাসাবাড়িতে এসির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এসির তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সীমার (যেমন ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) নিচে নামানো নিষিদ্ধ করা এবং সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জা পুরোপুরি বন্ধ রাখা অনেক বেশি কার্যকর সাশ্রয় নিশ্চিত করতে পারে। তৃতীয়ত, ব্যাটারিচালিত রিকশার অযৌক্তিক চার্জিং এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সে বিদ্যুৎ শিল্প উৎপাদন বা অন্যান্য জরুরি খাতে ব্যবহার করা সম্ভব।
পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, যুদ্ধ বা চরম অর্থনৈতিক মন্দার সময়েও তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবার শেষে বন্ধ করে এবং সবার আগে খোলে। কারণ তারা জানে, একটি প্রজন্ম যদি সঠিকভাবে শিক্ষিত না হয়, তবে সে জাতি কখনো সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। অথচ আমাদের দেশে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয় বা যেকোনো কৃচ্ছ্রসাধনের বেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই কেন ‘সফট টার্গেট’ করা হবে? কেন আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেই প্রথম আত্মাহুতি দিতে বলা হয়? অন্য সব মন্ত্রণালয় যখন তাদের বিলাসিতা ও অপচয় অব্যাহত রাখে, তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন নতি স্বীকার জনগণের কাছে ভুল বার্তা পাঠাচ্ছে। মানুষ মনে করছে, সরকার শিক্ষার চেয়ে অন্যান্য কম গুরুত্বপূর্ণ খাতকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
সরকার যদি সত্যিই জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে আন্তরিক হয়, তবে তাদের উচিত হবে একটি জাতীয় জ্বালানি অডিট পরিচালনা করা। প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে তাদের অপচয় কমানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা। সংকট প্রলম্বিত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে নেয়ার পরিবর্তে এলাকাভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি আরো জোরদার করা যেতে পারে, যাতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দূরত্ব কমে। স্কুল বাস সার্ভিস চালুর মাধ্যমে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা যেতে পারে। কিন্তু কোনো অবস্থায়ই সরাসরি পাঠদান বা অফলাইন ক্লাস বন্ধ করা উচিত নয়। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়া মানে হচ্ছে কিশোর-কিশোরীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা এবং তাদের বিপথে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া। করোনাকালে দীর্ঘ বিরতিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝরে পড়ার হার ও বাল্যবিবাহ যেভাবে বেড়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি আমরা আর দেখতে চাই না।
পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে নেয়ার পরিকল্পনাটি কেবল অদূরদর্শী নয়, এটি একটি জাতীয় বিপর্যয় ডেকে আনার নামান্তর। বর্তমান সরকার নিজেকে শিক্ষাবান্ধব হিসেবে দাবি করে। তাই অতীতের কোনো ভুল সিদ্ধান্তের পুনরাবৃত্তি বর্তমান সরকারের কাছ থেকে কাম্য নয়। জ্বালানি সংকট একটি সাময়িক বৈশ্বিক সমস্যা হতে পারে, কিন্তু শিক্ষার ক্ষতি একটি স্থায়ী ও প্রজন্মব্যাপী সমস্যা। সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলতে হবে। জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গায়ে হাত দেয়ার আগে অন্য সব বিকল্প পথ শতভাগ ব্যবহার করে দেখতে হবে। শিক্ষাকে যদি আমরা জাতির মেরুদন্ড বলে বিশ্বাস করি, তবে সে মেরুদন্ডতে কুঠারাঘাত করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে চরম হঠকারিতা। আমরা আশা করি, সরকার জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল রাখার সিদ্ধান্ত নেবে। জ্বালানি সাশ্রয় হোক প্রশাসনিক অপচয় রোধের মাধ্যমে, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারের ঠেলে দিয়ে নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গায়ে প্রথম আঁচড় নয়, বরং হোক শেষ আশ্রয়-এটিই আজ সময়ের দাবি।
লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট, পাঠানপাড়া (খানবাড়ি), কদমতলী, সদর-সিলেট।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D