১৬ ঘণ্টা পর সিলেটে পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট প্রত্যাহার, জনজীবনে ফিরেছে স্বস্তি

প্রকাশিত: ৬:৩২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০২৬

১৬ ঘণ্টা পর সিলেটে পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট প্রত্যাহার, জনজীবনে ফিরেছে স্বস্তি

প্রায় ১৬ ঘণ্টা দুর্ভোগের পর অবশেষে সিলেট বিভাগের পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোর ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর ২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর বিভাগীয় সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী।

এরআগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা আদায়ের প্রতিবাদ ও বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগে বুধবার রাত ১০টার দিকে সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। এর ফলে রাত থেকেই বন্ধ হয়ে যায় জ্বালানি তেল ও গ্যাস বিক্রি, যা সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকদের ভোগান্তিতে ফেলে।

যদিও বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াসাদ আদনান ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন, তা অধিকাংশ পাম্প মালিকরা মানেননি। ফলে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সংকট অব্যাহত থাকে।

সকালে মহানগরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও জ্বালানি না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন চালকরা। হঠাৎ করে ডাকা এই ধর্মঘটের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

সংকট নিরসনে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এতে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পুলিশ সুপার ড. যাবের সাদেক, মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠকে উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং চলমান সংকট সমাধানে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। পরে সমঝোতার ভিত্তিতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ধর্মঘট প্রত্যাহারের ফলে পেট্রোল পাম্পগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট