প্রকাশিত: ২:১৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২৬


সাম্রাজ্যবাদীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধে পৃথিবীব্যপী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ বিশ্ব জনগণের আত্ননিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার প্রতিবাদে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সমাবেশ।

ইরানের উপর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার মদদপুষ্ট ইসরাইল সরকারের আক্রমণ, আগ্রাসন ও আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিশ্বের নিপীড়িত জাতি ও জনগনকে রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে এবং এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) সিলেট জেলা কমিটি।

১ মার্চ রবিবার রাত ১০টায় সুরমা পয়েন্ট হতে এক বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিন্দাবাজার হয়ে কোর্ট পয়েন্টে এসে জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবুল ফজল এর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ন সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া’র পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা আহবায়ক শুভ আজাদ শান্ত, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমান আলী।

নেতৃবৃন্দ বলেন বিশ্ব বাজার ও প্রভাব বলয় পুনবণ্টন নিয়ে মার্কিনের নেতৃত্বে পশ্চিমা সা¤্রাজ্যবাদ ও তার প্রতিপক্ষ চীন-রাশিয়ার মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্ধন্ধিতার সাথে সম্পর্কিত হচ্ছে ইরানের উপর সামরিক আক্রমন ও আগ্রাসন। ইসরাইল-আমেরিকার হামলায় ইরানের সরকারপ্রধান ও শিশুসহ ব্যাপক হত্যা ও ধ্বংস হয়েছে। এছাড়াও সাম্প্রতিক পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যব্যাপী যে রণডংকা বাজছে তার মূলে রয়েছে আন্তঃসা¤্রাজ্যবাদী তীব্র প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্ধন্ধিতা।

বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক শক্তির জটিলতার প্রেক্ষাপটে মধ্য দিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউরোপের ভূ-রাজনৈতিক সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি প্রদর্শন পৃথিবীকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে পারে।

বিশ্বব্যাপী সা¤্রাজ্যবাদ তার অতি উৎপাদন সংকট থেকে মুক্তির পথ হিসেবে যুদ্ধকে সামনে আনছে। সা¤্রাজ্যবাদীরা পুঁজি ও শক্তি অনুপাতে বিশ্বকে ভাগ-ভাটোয়ারার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও রণনীতিগত গুরুত্বের প্রেক্ষিতে এ দেশকে নিয়ে আন্ত:সা¤্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা প্রতিদ্বন্ধিতা তীব্রতর হয়ে আগ্রাসী যুদ্ধে সম্পৃক্ত করার ষড়যন্ত-চক্রান্ত বেড়েই চলছে। সা¤্রাজ্যবাদী দেশগুলো মরিয়া বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। সম্প্রতি মার্কিন ও তার মদদপুষ্ট ইসরাইল সরকার ইরানে হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। বরং তা পুঁজি ও শক্তি অনুপাতে বাজার ও প্রভাব বলয় পুনর্বণ্টন নিয়ে আন্তসা¤্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্ধিতা, বাণিজ্যযুদ্ধ, মুদ্রাযুদ্ধ, প্রযুক্তি যুদ্ধ, আঞ্চলিক ও স্থানিক যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারসহ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপদ বৃদ্ধি করে চলেছে। এর বিপরীতে বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দাজনিত পরিস্থিতিতে আন্তসা¤্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বদ্বিতা তীব্রতর হয়ে মূল্যস্ফীতি-মুদ্রাস্ফীতিকে বৃদ্ধি করে জনজীবন বিপর্যস্ত ও অনিশ্চিত করে চলেছে। এ প্রেক্ষিতে বিশ্বের দেশে দেশে শ্রম-পুঁজির দ্বন্ধ, নিপীড়িত জাতি ও জনগণের সাথে সা¤্রাজ্যবাদের দ্বন্ধ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম, বিক্ষোভ, বিদ্রোহ, বিপ্লবের সম্ভাবনাকে বৃদ্ধি করে চলেছে। নেতৃবৃন্দ আন্তসাম্রাজ্যবাদ যুদ্ধ তথা বিশ্বযুদ্ধের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী শান্তির জন্য পুঁজিবাদী-সা¤্রাজ্যবাদী এবং নয়াউপনিবেশিক ও আধাসামন্তবাদী দেশগুলোতে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে বিশ্ববিপ্লবের করণীয়কে অগ্রসর করে চিরস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে সফল করার আহ্বান জানান।

সমাবেশ থেকে আন্তসাম্রাজ্যবাদ যুদ্ধের বিরুদ্ধে দুনিয়ার সকল  সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শক্তি ও জনসাধারনের মধ্যে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলে সা¤্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট