দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরামের স্বস্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ

প্রকাশিত: ৮:২৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬

দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরামের স্বস্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ

দুদক সংস্কারে বিপক্ষে ছিলেন সাত উপদেষ্টা ও মন্ত্রীদের জন্য ৯০৩০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে সরকার এই সংবাদের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির এক জরুরী সভা ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার বিকালে বন্দরবাজারের কুদরত উল্লাহ মসজিদ মার্কেটের ৩য়
তলাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইকবাল হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা ৩১ জানুয়ারি-২০২৬ বাংলাদেশ প্রতিদিন এর প্রথম পৃষ্ঠা বিশেষ সাক্ষাৎকারে “দুদক সংস্কারে বিপক্ষে ছিলেন সাত উপদেষ্টা” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে গভীর উদ্বেগ, অপর দিকে প্রথম আলো’র ১ম পৃষ্ঠায় “নাইকের কাছে ১২,৩৭১ কোটি টাকা চেয়ে ৫১২ কোটি টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে স্বস্তি এবং ২৫ জানুয়ারি প্রথম আলোর ১ম পৃষ্ঠায় “মন্ত্রীদের জন্য ৯০৩০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে সরকার” সংবাদে গভীর উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, “আমাদের বলা হয়েছে, শুধু আমলাতন্ত্রের একাংশ সংস্কার চায় না। কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদের অন্তত সাতজন সদস্য তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।” এই সাত উপদেষ্টার নাম, সাকিন ও পরিচয় জানতে চায় দেশবাসী। কথাবর্তা পরিষ্কার স্বাধীন দুদক এর বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছেন তারা দুর্নীতিবাজদের দোসর, নব্য স্বাধীনতা বিরোধী আলবদর-রাজাকার।

অপরদিকে ২১ বছর আগে সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বাংলাদেশের গ্যাস সম্পদের পাশাপাশি প্রকৃতি, পরিবেশ ও অন্যান্য সম্পদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এজন্য ২০০৩ সালের ৭ জানুয়ারি নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবী করে পেট্রোবাংলা। ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করে নাইকো। ক্ষতিপূরণ আদায়ে দেশের আদালতে মামলা দায়ের করো পেট্রোবাংলা। পরবর্তীতে নাইকো’র কাছে ২০১৬ সালে ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার বাপেক্স এবং বাংলাদেশ সরকার ৮৯ কোটি ৬ লাখ ডালার ক্ষতিপূরণ দাবী করে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে মামলা দায়ের করে।

অবশেষে ওয়াশিংটন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত নাইকোকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ ৫১২ কোটি টাকা।

নেতৃবৃন্দ অন্তর্বর্তী সরকারকে এই অর্থ আদায়ে সমন্বীত ও চুড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণে জোর দাবী জানিয়ে বক্তারা মন্ত্রীদের জন্য ৯০৩০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও আজাইরা কাজ উল্লেখ করে বলেন, বিগত সরকারের সময়ে মন্ত্রীদের জন্য তৈরিকৃত ফ্ল্যাট থাকা সত্ত্বেও আবার নতুন করে ফ্ল্যাট তৈরির উদ্যোগ দেশবাসীর বোধগম্য নয়।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল না, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ১ম ৬ মাসে শুল্ককর আদায়ে ঘারটি প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা, এমন সময় বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন, যা বাস্তবায়ন অসম্ভব। দেশের ৪ কোটি মানুষ ২ বেলা খেতে পায় না। সেই দেশে মন্ত্রীদের জন্য বিশাল আকৃতির ফ্ল্যাট অত্যান্ত বেমানান।

কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জননেতা মকসুদ হোসেন এর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নেছারুল হক চৌধুরী বুস্তান স্যার, কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ডাঃ অরুণ কুমার দেব, মামুন রশীদ এডভোকেট ও মোঃ লায়েক মিয়া, সিলেট মহানগর শাখার আহবায়ক আব্দুল গফুর, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শেখ কবির আহমদ, তারেক আহমদ বিলাস, আইন বিষয়ক সম্পাদক- অরুণ চন্দ্রনাথ এডভোকেট, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এনামুল হক আবুল মেম্বার, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শিতাব, অর্থ সম্পাদক ড. চিন্ময় চৌধুরী, সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হান্নান, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মতাওয়ালী ফলিক, সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহিদুর রহমান জুনু, সহ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক- শ্রমিক নেতা মিজান গাজী, কেন্দ্রীয় সদস্য মাঈন উদ্দিন, মশিউর রহমান, আবু তাহের, যুব ফোরামের আহবায়ক নিয়াজ কুদ্দুস খান, যুগ্ম আহবায়ক- রিকন তালুকদার রিখন, জুয়েল আহমদ নিপু, তামিম রহমন চৌধুরী, মিজানুর রহমান প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট