সুখ, শান্তি ও সন্তুষ্টির গোপন সূত্র

প্রকাশিত: ১০:৪৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২৫

সুখ, শান্তি ও সন্তুষ্টির গোপন সূত্র

মোঃ শামছুল আলম


সকল মানুষই চায় সুখ, শান্তি ও সন্তুষ্টি। খাবার, বাসস্থান, পোশাক, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, শান্তি এবং সুখ আমাদের সকলেরই প্রয়োজন। এ সকল বস্তুর সন্ধানে আমরা আমাদের জীবন কাটিয়ে দেই এই আশায়, এই বস্তুগুলো আমাদের সুখ দান করবে।
বিশ্বায়নের এই যুগে আমাদের যথার্থ চাহিদা সম্পর্কে আমরা সহজেই জানতে পারি। ইন্টানেটের তথ্যের বেড়াজাল থেকে আমরা প্রায় ক্ষেত্রেই আমাদের আকাঙ্ক্ষিত বিষয় বা বস্তুর সন্ধান পেতে পারি।
নির্দিষ্ট কোন খাবারের জন্য আমরা এখন অনলাইনে অর্ডার করার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে পৃথিবীর যেকোন স্থানে খাবারটির স্বাদ নিতে পারি। বর্তমানে আমরা এমন এক যুগে অবস্থান করছি, যেখানে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের চাহিদা মেটানোর মাধ্যমে সন্তুষ্টি ও পরিতৃপ্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সুখ ও সন্তুষ্টির এত সরঞ্জাম ও আয়োজন সত্ত্বেও আমরা সুখী নই। যে নতুন পোশাকই আমরা ক্রয় করি, তার নতুনত্ব আমাদের কাছে হারিয়ে যায়। যে বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে আমরা চিন্তা করি আমাদের সমস্যা সমাধানের, তা যেনো অনেক সময় আরো সমস্যাকে আমাদের কাঁধে চাপিয়ে দেয়। আমাদের ব্যাংক একাউন্টে লক্ষ লক্ষ বা কোটি কোটি টাকা থাকার পরও আমাদের জন্য তা যথেষ্ট নয়। আমরা বোকার মত চিন্তা করতে থাকি, শুধু পরবর্তী একটি চাহিদাই আমাদেরকে সন্তুষ্ট করবে।
কুরআনে বলা হয়েছে- “প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে। এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌছে যাও।” (সূরা তাকাসুর, আয়াত: ১-২)

লোভ-লালসা ও অত্যধিক দুনিয়াপ্রীতি মানুষকে সুখী করতে পারে না। পৃথিবীতে লোভী মানুষকে তুষ্ট করার মতো কোনো জিনিস নেই। তাদের চাহিদার সমাপ্তি ঘটাতে পারে একমাত্র মৃত্যু। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যদি আদম সন্তানের দুই উপত্যকা ভরা সম্পদ থাকে, তবু সে তৃতীয়টার আকাঙ্ক্ষা করবে!
আর মাটি ছাড়া আদম সন্তানের পেট কিছুতেই ভরবে না। আর যে তাওবা করবে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৩৬)

সুখের গুপ্ত সূত্র: মনোবিজ্ঞানিদের মতে, মানুষ তখন তৃপ্ত থাকে যখন সকলকিছু তার ইচ্ছা অনুযায়ী চলতে থাকে। কিন্তু সকলকিছু সবসময়ই মানুষের ইচ্ছা অনুযায়ী চলে না।
তাই পৃথিবীতে সুখ-শান্তি পেতে হলে অল্পে তুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। মহান আল্লাহ যা দিয়েছেন, তার ওপর তুষ্ট থাকা এবং আল্লাহর নির্দেশ পালন করা সুখী জীবনের মূল্য সূত্র।

আল্লাহর কতইনা রহমত, পৃথিবীকে এরূপে সৃষ্টি করতে, যাতে দুনিয়ার সকল বস্তু সত্ত্বেও তা আমাদেরকে সন্তুষ্ট করতে পারেনা। আমাদের প্রতি তার ভালোবাসা ও দয়ার কারনে তিনি আমাদেরকে তার দিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন, যাতে আমরা তার কাছে চাইতে পারি। তিনিই আমাদের সকল কিছুর জন্য যথেষ্ট। সেকারণেই রাসূল (সা.) আমাদের দোয়া শিখিয়েছেন “হাসবি আল্লাহ” (আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট)।
আল্লাহ আমাদের হৃদয়কে এমনভাবে তৈরি করেছেন যা একমাত্র তার কাছেই, তার স্মরণেই সন্তুষ্ট হয়। রাসূল (সা.) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন, “আকাশ ও পৃথিবীর কিছুই আমাকে ধারণ করতে সক্ষম নয়, কেবল যথার্থ মুমিনের হৃদয় ছাড়া।” কুরআনে বলা হয়েছে- “জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।” (সূরা রাদ, আয়াত: ২৮)

আমাদের সকলেরই বিভিন্ন চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা আছে। আমরা আমাদের দুনিয়ার চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা পূরনের চেষ্টা করবো এতে কোন প্রকার সমস্যা নেই। কিন্তু আমাদের সবসময় মনে রাখা উচিত, আত্মসন্তুষ্টি ও আত্মতৃপ্তি এই চাহিদার পূরণ থেকে আসেনা। একমাত্র আল্লাহর স্মরণেই আমাদের হৃদয় শান্তি লাভ করতে পারে। তাকে স্মরণ করার একটি উত্তম উপায় হতে পারে, তার বাণীর মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করা, যা তিনি আমাদের হেদায়তের জন্য নাযিল করেছেন। অর্থাৎ পবিত্র কুরআন (অর্থসহ) অধ্যয়নের মাধ্যমে আমরা তাকে স্মরণ করতে পারি।

এবং আমাদের উচিত, অন্তরের দরিদ্রতা দূর করার চেষ্টা করা। আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে শেখা, এটিই হবে আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা। আবদুল্লাহ ইবনে উমার ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তির ইসলাম কবুল করার সৌভাগ্য হয়েছে, যাকে প্রয়োজন পরিমাণ রিজিক দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ তাআলা তাকে যে সম্পদ দিয়েছেন এর ওপর পরিতৃপ্ত হওয়ার শক্তি দিয়েছেন, সে-ই (জীবনে) সফলতা লাভ করেছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৩১৬)

মহান আল্লাহ সবাইকে অল্পে তুষ্টি অর্জন করে সুখী জীবন গঠনের তাওফিক দান করুন।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট