জৈন্তার ‘শাপলা’কে বিশ্বে তুলে ধরবেন ক্লাউডিয়া

প্রকাশিত: ১১:৫৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০২০

জৈন্তার ‘শাপলা’কে বিশ্বে তুলে ধরবেন ক্লাউডিয়া

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবির হাওরে চোখ জুড়ানো লাল শাপলার রাজ্য পর্যটকদের মন কাড়ে। সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে এই লাল শাপলার কথা ছড়িয়ে গেছে সারাদেশে। এবার সেই লাল শাপলার বিলের টানে ছুটে এলেন সুদূর জার্মানির চিত্রশিল্পী ক্লাউডিয়া।

জানা গেছে, জার্মানির চিত্রশিল্পী ক্লাউডিয়া, বাংলাদেশের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টিকালচার বিভাগের প্রভাষক জুনায়েদ মোস্তফা ও রাশেদ কামাল রাশেদের সমন্বয়ে একটি দল গেল শুক্রবার (১০ জানুয়ারী) আসেন জৈন্তাপুরের লাল শাপলার বিলে। সকাল হতে বিকাল পর্যন্ত লাল শাপলার বিল গুলোকে রং-তুলির আঁচড়ে চিত্রকর্ম তৈরী করেন জার্মান চিত্রশিল্পী ক্লাউডিয়া, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টিকালচার বিভাগের লেকচারার জুনায়েদ মোস্তফা, রাশেদ কামাল রাশেদ।

এ দলটি রঙ-তুলির আঁচড়ে চিত্রকর্মে ফুটিয়ে তুলে লাল শাপলার মুগ্ধতা। এসব চিত্রকর্ম বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হবে।

এ প্রসঙ্গে জার্মান চিত্রশিল্পী ক্লাউডিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘লাল শাপলার বিল বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি অনেক সুন্দর স্থান। লাল শাপলার অসাধারণ সৌন্দর্য, বিলের ওপর অতিথি পাখির উড়াউড়ি, সুর্যোদয় আর সূর্যাস্তের মায়ায় পরিবেশে অন্যরকম মুগ্ধতা এনে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘আমি লাল শাপলার বিলের ১০টি চিত্রকর্ম তৈরি করেছি। এগুলো বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে তুলে ধরবো।’

জার্মান এই চিত্রশিল্পী লাল শাপলার বিলে যাওয়ার সড়ক সংস্কারের তাগিদ দেন। এছাড়া তিনি বিল এলাকায় থাকা স্থাপনা সরানোর পরামর্শও দেন। তিনি বিলের যাতায়াতের রাস্তাটির সংস্কার করা হলে এটি আরও আর্কর্ষনীয় হত।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টিকালচার বিভাগের প্রভাষক রাশেদ কামাল রাশেদ বিলের বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে থাকা দোকান সরিয়ে নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিনি জানান, জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে লাল শাপলার বিলের সংক্ষিপ্ত যে ইতিহাস তুলো ধরা হয়েছে তা সম্পুরক ভাবে ভূল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে ঐহিত্যবাহী এবং পুরাকৃর্তী স্থানটি স্থানীয় সহ বিভিন্ন দেশ হতে আগত পর্যটকরা এই অঞ্চলের ভূল ইতিহাস জানতে পারছে, অবিলম্বে লাল শাপলার রাজ্যের ভূল ইতিহাস অপসারন করে প্রকৃত ইতিহাস লিপিবদ্ধের দাবী জানান তিনি।

জৈন্তাপুর পুরাকীর্তি ও পর্যটন উন্নয়ন সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদ খায়রুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, লাল শাপলার বিল সংরক্ষণ প্রয়োজন। আগে বিলটি লিজ দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। তবে বিলের প্রকৃত এলাকা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে প্রভাবশালী ভূমি খেকো চক্রের সদস্যরা বিলের প্রায় ২ হাজার বিঘা জমি দখল করে বাড়ী নির্মাণ ও লাল শাপলা নষ্ট করে ফসলী জমিতে রুপান্তর করছে। প্রভাবশালীদের কবল থেকে বিলটি রক্ষা করতে প্রকৃত এলাকা নির্ধারণ করা জরুরি। বিলটির প্রকৃত এরিয়া নির্ধারন ও সংরক্ষনের জন্য আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট