জামিন পাওয়া ‘অপরাধীরা’ প্রতি সপ্তাহে ওসির কাছে হাজিরা দেবেন : আইজিপি

প্রকাশিত: ১২:১৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬

জামিন পাওয়া ‘অপরাধীরা’ প্রতি সপ্তাহে ওসির কাছে হাজিরা দেবেন : আইজিপি

চাঁদাবাজ-ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি বা কিশোর গ্যাংয়ের মতো ‘অপরাধীদের’ জামিনে বেরিয়ে ফের অপরাধে জড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির।

তিনি বলেছেন, “এদেরকে আইনের আওতায় নেওয়ার পরে অল্প দিনের মধ্যে তারা আবার বের হয়ে এসে সেম অপরাধের সাথে জড়িত হয়। আমি বলেছি এলাকাভিত্তিক লিস্ট থাকবে।

“ওরা জামিনে আসার পরে প্রতি সপ্তাহে ওসির কাছে এসে হাজিরা দিবে যে, ‘আমি স্যার ভালো হয়ে চলতেছি’। এই প্রক্রিয়াটা আমরা শুরু করেছি।”

আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারক করতে মোহাম্মদপুর এলাকায় যান তিনি।

মোহাম্মদপুরের জেনিভা ক্যাম্প, মোহাম্মদপুর টাউন হল ও মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড়ে ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

এরপর মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শনে গিয়ে আলী হোসেন ফকির বলেন, “আমি রাস্তায় থাকলে সহকর্মীরাও আরও সক্রিয় থাকবে এবং আইন প্রয়োগে কঠোরতা বাড়বে। সাধারণ মানুষ পুলিশের পাশে রয়েছে। এবং যে-ই অপরাধী হোক, কঠোরভাবে দমন করা হবে।।”

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর এক নম্বর অ্যাসাইনমেন্ট সমাজে মাদক থাকবে না। মাদকে আমাদের পুরো একটা জেনারেশন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

“এ ব্যপারে আপানারা সবাই সহযোগিতা করবেন। আপনাদের সন্তানরা কে কোথায় কার সঙ্গে মিশছে একটু খেয়াল রাখবেন।”

পুলিশের পোশাক পরিবর্তন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, “পুলিশ সার্ভিসের ফিল্ড লেভেল পর্যন্ত সবাই চাচ্ছে একটা ভিজিবল পোশাক।

“কারণ আমরা যখন বাইরে ডিউটি করতে যাই, আমার পুলিশের ওই পোশাকটাকে ওইভাবে মানুষের চোখে পড়ে না। তো আমরা চাচ্ছি, সরকার এ ব্যপারে কনসার্ন।”

অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশের যে নতুন পোশাক চালু করেছে, বাহিনীর বেশির ভাগ সদস্য সেটির পক্ষে নয় বলে দাবি করেছে পুলিশ ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সপ্তাহ খানেকের মধ্যে গেল সোমবার এক বিবৃতিতে নতুন পোশাক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তা বদলের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আইজিপি আলী হোসেন ফকিরও পোশাক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “শুধু পোশাক না, পুলিশে আমাদের মনের পরিবর্তন করতে হবে। যতো ভালো পোশাকই দেন না কেন—পুলিশের যারা ফোর্স আছে, অফিসার আছে- তাদের হৃদয়টাকে যদি প্রকৃত সেবক হিসেবে কাজ করতে না চায়, তাহলে পোশাক পরিবর্তন করেন আর যাই করেন কাজ হবে না। আগে আপনার পজিটিভ অ্যাটিচিউড থাকতে হবে।”

সড়ক দখল করে বিভিন্ন দোকানপাট বসানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আলী হোসেন ফকির বলেন, “আমরা প্রথমে মোটিভেশনাল কথা বলব, আপনারা এতো দিনের মধ্যে ফুটপাত থেকে চলে যাবেন। সরকারের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার যারা আছে, তাদের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমি চাই এলাকায় এলাকায় হলিডে মার্কেট করে দিব।

“ফুটপাতে আগে দেখেছি এলাকার প্রভাবশালী লোক এবং আমাদের প্রশাসনেরও দুর্নাম আছে, জয়েন্টলি তারা এখান থেকে চাঁদা তোলে; এজন্য এগুলো ক্লিন হয় না। আমরা হলিডে মার্কেট করে দিতে চাই।”

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার সরওয়ার, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট