শ্রমিক নেতা আবুল কালাম আজাদ’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রকাশিত: ৬:১৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২৫

শ্রমিক নেতা আবুল কালাম আজাদ’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজি বিরোধী আপোষহীন সংগ্রামী নেতা, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবুল কালাম আজাদের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।

৩ মার্চ সোমবার সকাল ৯টায় মানিকপীরস্থ সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ।

শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে জেলা কমিটির সভাপতি মো. ছাদেক মিয়ার সভাপতিত্বে এবং ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুনু মিয়া সাগর’র পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সরকার, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলার দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, শাহপরান থানা কমিটির সভাপতি খোকন আহমদ, প্রয়াতের পুত্র এবং জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা কমিটির আহবায়ক শুভ আজাদ (শান্ত), বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের সদস্য মহিদুল ইসলাম, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটির সভাপতি মনির হোসেন, জেলা কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমান আলী, বাবনা আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন।

নেতৃবৃন্দ আবুল কালাম আজাদ এর জীবন ও কর্ম তুলে ধরে বলেন, সাদামাটা জীবন-যাপন ও সহজ সরল ব্যবহার এবং সুবক্তার কারণে তিঁনি অতি সহজেই শ্রমিকদের সাথে মিশতে পারতেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে তার গ্রহনযোগ্যতা অর্জন করেন। তার আন্তরিক ব্যবহারের জন্য শ্রমিকদের কাছে তিনি প্রানপ্রিয় নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। তিনি শ্রমিক কৃষক জনগণের রাষ্ট্র তথা গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। পাশাপাশি হোটেল সেক্টরে শ্রমআইন বাস্তবায়ন হোটেল শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান, বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে নিন্মতম মজুরি নির্ধারণ ও শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আমৃত্যু সোচ্চার ছিলেন।

আরও বলেন, দেশের শ্রমিক-শ্রমজীবী-মেহনতি জনগণ অনাহার-অর্ধাহার, অভাব-অনটন, দুঃখ কষ্টে সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। চাল-ডাল-তেল, পেঁয়াজ, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, ঔষধ-চিকিৎসা সামগ্রী, স্কুল কলেজ বিশ^বিদ্যালয়ের ভর্তি-বেতন ও শিক্ষা উপকরণের দাম প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। জিনিসপত্রের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে। সেই তুলনায় শ্রমিক-শ্রমজীবী মানুষের আয় ও মজুরি বাড়েনি।

নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রমজান মাসে হোটেল শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়। এ প্রেক্ষিতে সরকারের কোন দপ্তর বা সংস্থা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। রমজান পরবর্তী ঈদ আসলেও শ্রমিকদের দেওয়া হয়না উৎসব বোনাস।দেশের বর্তমান অবস্থায় প্রয়োজন শ্রমিক-কৃষক-মেহণতি জনগণের লাগাতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলে শ্রমিক কৃষকের বাসপোযোগী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়া। জাতীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলে আবুল কালাম আজাদের অসমাপ্ত কাজ জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করার আহবান জানান।

আলোচনা সভা শেষে শপথ বাক্য পাঠ করান বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন যুগ্ন সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট