জগন্নাথপুরে মসজিদ সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে বাধা, হামলা

প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২৫

জগন্নাথপুরে মসজিদ সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে বাধা, হামলা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মসজিদের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে বাধা, শ্রমিকদের উপর হামলা এবং মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করে গ্রামবাসীকে হয়রানির অভিযোগ করেছেন উপজেলার উত্তর কালনিরচর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মোবাবারক হোসাইন মেন্দি।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্টিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তাদের এলাকার মৃত কালাই মিয়ার ছেলে ইংল্যান্ড প্রবাসী আব্দুল হক সানু মিয়া একজন প্রভাবশালী ও সুবিধাবাদী মানুষ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে তিনি তাদের একজন ছিলেন। এখন আবার তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা বলে জাহির করছেন। এমনকি, দেশের বাইরে থাকলেও থানা পুলিশের নিয়ন্ত্রক তিনিই। তার নিজের লোকজনকে দিয়ে তিনি এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামবাসীকে উপেক্ষা করে তাদের প্রতিষ্ঠিত মাদরাসার মসজিদকে কেন্দ্রীয় মসজিদ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার ইচ্ছাপূরণ করতে গিয়ে তারা বর্তমান কেন্দ্রীয় মসজিদের সংস্কার কাজ ও ট্যাংকি নির্মাণে বাধা প্রদান করেন। কাজ বন্ধ না করায় গত ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় নির্মাণ শ্রমিক খালিক মিয়ার উপর তারা সন্ত্রাসী হামলা চালান। এতে তিনি মারাত্মক আহত হন। খালিক ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় গত ২৬ মার্চ জগন্নাথপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (নং ১৮, তারিখ ২৬/০৩/২৫ইং)। মামলায় আসামি করা হয় উত্তর কালনিরচর গ্রামের মৃত কটাই মিয়ার ছেলে আলাউর রহমান ইয়াবর ও মোহাম্মদ আলী, মৃত তেরা মিয়ার ছেলে শুকুর আলী, কনাই মিয়ার ছেলে রুহেল মিয়া, সমসু মিয়ার ছেলে সিজিলসহ ১২জনকে। কিন্তু এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি।

এদিকে সানু মিয়ার দায়েরকৃত অপর একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বাড়ি ফেরার পথে গত ২৬ মার্চ দুপুর আড়াইটার দিকে কালনিরচর বাজারে মোবারক হোসাইন মেন্দির উপর হামলা চালায় ইয়াবর, মোহাম্মদ আলী, শুকুর, রুহেল, সিজিলসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী। এ ঘটনায় ১৫/২০ জন আহত হন। এ ব্যাপারেও একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করায় গোটা এলাকার মানুষ সন্ত্রস্ত। তারা গ্রামবাসীকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। যেকোনো সময় তারা আরও বড়ধরনের হামলা চালাতে পারে বলেও জানান মেন্দি।

তিনি জানান, এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত দেড়টার দিকে গ্রামে ডাকাত পড়েছে বলে ট্রিপল নাইনে কল দিয়ে সানু মিয়া পুলিশ হাজির করে এবং নিজের লোক দিয়ে তাদের উপর হামলা করায়। এ ঘটনায় দায়েরকৃত পুলিশ অ্যাসল্ট মামলার প্রধান দুই আসামি করা হয় প্রায় দুই বছর থেকে প্রবাসে থাকা কালনিরচর মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল বশির ও আব্দুল করিমকে। এই মিথ্যা বানোয়াট সাজানো মামলায় সেক্রেটারি মোবারক হোসেন মেন্দিসহ ২২ জনের নাম উল্লেখসহ মোট ১২০ জনকে আসামি করা হয়।

এদিকে মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল বশিরের মৌরসী সম্পত্তি নিয়েও সানু মিয়ার সাথে মামলা চলছে। ২০১১ সালে মামলার রায় আব্দুল বশিরের পক্ষে গেলেও ২০২৩ সালে আবার রায় নিয়ে এসে সানু দোকান কোটা নির্মাণ শুরু করে। এসময় তারা মোবারক হোসেন মেন্দি ও তার পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলেন।

এইভাবে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে হয়রানি এবং হামলা চালিয়ে গ্রামে ত্রাসের রাজত্ত্ব কায়েম করেছে সানু ও তার লোকজন। তাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন মোবারক হোসেন মেন্দি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তার পরিবারের সদস্যবৃন্দ।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট