বারমুডার ‘রহস্য’ উন্মোচন, বিজ্ঞানীদের গবেষণায় মিলল অবিশ্বাস্য তথ্য

প্রকাশিত: ১:২৫ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০২৬

বারমুডার ‘রহস্য’ উন্মোচন, বিজ্ঞানীদের গবেষণায় মিলল অবিশ্বাস্য তথ্য

দশকের পর দশক ধরে আটলান্টিক মহাসাগরের একটি রহস্য ভূতত্ত্ববিদদের ভাবিয়ে তুলছিল। বারমুডা দ্বীপটি কেন আশপাশের সমুদ্রতলের তুলনায় এত উঁচুতে অবস্থান করছে, যেখানে এর আগ্নেয়গিরিগুলো ৩ কোটিরও বেশি বছর ধরে নিষ্ক্রিয়? সাধারণত আগ্নেয়গিরি নিভে যাওয়ার পর সমুদ্রতল নিচে নেমে যাওয়ার কথা থাকলেও বারমুডার ক্ষেত্রে তা হয়নি। মার্কিন বিজ্ঞানীদের একটি দল দাবি করছে, তারা অবশেষে এই রহস্যের জট খুলতে পেরেছেন। খবর এনডিটিভির।

বিজ্ঞানীদের মতে, বারমুডা এমন এক ধরনের ভূতাত্ত্বিক গঠনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায়নি। কার্নেগি সায়েন্সের ভূকম্পবিদ উইলিয়াম ফ্রেজার এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের জেফ্রি পার্কের নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। তাদের গবেষণাটি সম্প্রতি কার্নেগি সায়েন্সের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

হাওয়াইয়ের মতো আগ্নেয় দ্বীপমালাগুলো সাধারণত ‘ম্যান্টল প্লুম’-এর ওপর গঠিত হয়। এটি হলো পৃথিবীর গভীর থেকে উঠে আসা উত্তপ্ত শিলার স্তম্ভ। আগ্নেয় কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে গেলে এবং টেকটোনিক প্লেট দূরে সরে গেলে স্ফীত অংশটি আবার নিচে নেমে যায়। কিন্তু বারমুডা এখনো আশপাশের সমুদ্রতলের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট উঁচুতে অবস্থান করছে।

এই রহস্য অনুসন্ধানে গবেষকরা বড় ভূমিকম্প থেকে উৎপন্ন ভূকম্পীয় তরঙ্গ বিশ্লেষণ করেছেন। বারমুডার একটি ভূকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য ব্যবহার করে তারা দ্বীপটির নিচে প্রায় ২০ মাইল গভীর পর্যন্ত পৃথিবীর অভ্যন্তরের একটি চিত্র তৈরি করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রীয় ভূত্বকের ঠিক নিচে ১২ মাইলেরও বেশি পুরু একটি বিশাল শিলাস্তর রয়েছে। এই শিলার ঘনত্ব আশপাশের ম্যান্টলের তুলনায় কম। ফলে এটি অস্বাভাবিকভাবে ভাসমান। নিচ থেকে কোনো উত্তপ্ত পদার্থ ওপরে ঠেলে দেওয়ার পরিবর্তে, এই হালকা শিলাস্তরটি অনেকটা ‘ভেলা’র মতো কাজ করছে। এই হালকা ও বিশাল স্তরের কারণেই বারমুডা এবং এর চারপাশের সমুদ্রতল এখনো ভেসে আছে।

গবেষকদের ধারণা, ‘আন্ডারপ্লেটিং’ নামে পরিচিত এই স্তরটি কয়েক কোটি বছর আগে বারমুডার আগ্নেয়গিরি সক্রিয় থাকাকালীন গঠিত হয়েছিল। তখন কার্বনসমৃদ্ধ গলিত ম্যান্টল শিলা ভূত্বকের নিচের অংশে প্রবেশ করে সেখানেই ঠান্ডা হয়ে জমাট বাঁধে। এই পদার্থের উৎস সম্ভবত কয়েকশ কোটি বছর আগের, যখন সুপারমহাদেশ ‘প্যাঞ্জিয়া’ গঠিত হচ্ছিল।

গবেষক উইলিয়াম ফ্রেজার বলেন, বারমুডা গবেষণার জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কারণ এর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রচলিত ‘ম্যান্টল প্লুম’ মডেলের সঙ্গে মেলে না। আমাদের এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দেয় যে পৃথিবীর ম্যান্টলের ভেতরে আরও কিছু প্রবাহগত প্রক্রিয়া রয়েছে, যা আমরা এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারিনি।

উল্লেখ্য ফ্লোরিডা, বারমুডা এবং পুয়ের্তো রিকোর মধ্যবর্তী এই অঞ্চলটি ‘বারমুডা ট্রায়াঙ্গল’ হিসেবে পরিচিত। জাহাজ ও উড়োজাহাজ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার নানা লোককথা এই অঞ্চলকে ঘিরে রয়েছে। যদিও অনেকে অলৌকিক শক্তির ইঙ্গিত দেন, তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন এর মূল কারণ অতিরিক্ত যানচলাচল, চরম প্রতিকূল আবহাওয়া এবং মানুষের ভুল। নতুন এই গবেষণাটি মূলত দ্বীপটির ভৌগোলিক উচ্চতা ও স্থায়িত্বের বৈজ্ঞানিক কারণ উন্মোচন করেছে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট