৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২৬
বিদেশি নাগরিকদের সম্পত্তির মালিকানার ক্ষেত্রে নতুন আইন জারি করেছে সৌদি আরব সরকার। নতুন এই আইনে ডিসক্লোজার নীতি কঠোর করার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ কোটি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে নতুন আইনে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন আবাসন মালিকানা আইনে বিদেশি নাগরিক, কোম্পানি এবং অলাভজনক সংস্থাগুলো কীভাবে দেশটির সম্পত্তি বা রিয়েল এস্টেটের বিনিয়োগ করতে পারবে, তার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সৌদির রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’-এর অধীনে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রিয়েল এস্টেটের বাজারে শৃঙ্খলা আনতেই নতুন এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
নতুন এই কাঠামোর মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি সমন্বিত ইলেকট্রনিক পোর্টাল। রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি দ্বারা পরিচালিত এবং জাতীয় রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রির সাথে সরাসরি যুক্ত এটি। বিদেশি নাগরিক, কোম্পানি এবং বিদেশি অংশীদারিত্ব থাকা সৌদি কোম্পানিগুলোর সম্পত্তি মালিকানার আবেদন জমা, রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ এবং সমস্ত লেনদেন সম্পন্ন করার মূল মাধ্যম হবে এই প্ল্যাটফর্ম।
বিধিমালার আওতায়, অনাবাসী বিদেশি নাগরিকদের সম্পত্তি কেনা বা কোনও আবাসনের অধিকার পাওয়ার আগে অবশ্যই সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদিত একটি ডিজিটাল আইডি নিতে হবে। একইসঙ্গে তাদের নিজস্ব নামে একটি সৌদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং সেই ডিজিটাল আইডির সঙ্গে যুক্ত একটি সৌদি মোবাইল নম্বর নিবন্ধন করতে হবে।
আলাদা কিছু বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য। তাদেরকে অবশ্যই বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত হতে হবে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব সুবিধাভোগী মালিকদের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। এছাড়া, অনুমোদিত সৌদি পরিচয়পত্রধারী একজন আইনি প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে এবং দেশটিতে কোম্পানির নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
এই শর্তগুলো পূরণ হলে একটি নিবন্ধন নম্বর ইস্যু করবে সৌদি বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়। একক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে যদি কোম্পানির ৫ শতাংশ বা তার বেশি মালিকানা পরিবর্তিত হয়, তবে কোম্পানিকে ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়কে তা জানাতে হবে। যদি কোম্পানির মূল দেশের শাসন প্রক্রিয়ার কারণে অন্য কোনও পক্ষ কোম্পানির সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত বা এর স্বাধীনতা খর্ব করার সুযোগ পায়, তবে সে ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
বিদেশি অলাভজনক সংস্থাগুলোকেও নতুন এই কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। তাদের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর নন-প্রফিট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট’-এ নিবন্ধন করতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের তথ্য প্রকাশ করতে হবে এবং অনুমোদিত সৌদি পরিচয়ধারী প্রতিনিধি ও সৌদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালু রাখতে হবে। কোনও বড় কাঠামোগত পরিবর্তন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এলে ১৫ দিনের মধ্যে তা প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে হবে।
বিদেশি পরিবারের সম্পত্তি মালিকানার বিষয়েও নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে এই নীতিমালায়। সৌদি আরবে কোনও সম্পত্তি কেনার সময় বিদেশি স্ত্রী এবং সন্তানদের নির্ভরশীল হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যাতে একই পরিবারের প্রতিটি সদস্য আলাদাভাবে অন্য কোনও বাড়ির মালিক হতে না পারেন। তবে, বিবাহবিচ্ছেদ হলে কিংবা ছেলে বা মেয়ের বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে এই নিয়মের ব্যতিক্রম হতে পারে।
নতুন আইনটিতে দুই পবিত্র নগরীর ধর্মীয় সংবেদনশীলতা রক্ষা করা হয়েছে। এর আগে প্রকাশিত বিধান অনুযায়ী, মক্কা ও মদিনায় সম্পত্তির মালিকানা কেবল মুসলিম নাগরিকদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে; আর কোম্পানি বা বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে।
রিয়াদ, জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় বিদেশিদের দ্বারা অর্জিত রিয়েল এস্টেটে লেনদেনের ওপর ২ শতাংশ ফি ধার্য করা হয়েছে। তবে, উত্তরাধিকার বণ্টন, আদালতের চূড়ান্ত রায়, জনস্বার্থে অধিগ্রহণ, ওয়াকফ ও সরকারি সংস্থায় অনুদান, পারস্পরিক চুক্তির অধীনে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার লেনদেন এবং শতভাগ মালিকানাধীন কোম্পানি বা বিনিয়োগ তহবিলে কিছু হস্তান্তরসহ মোট ১০টি ক্যাটাগরির লেনদেনকে এই ফির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রির মাধ্যমে দলিল স্থানান্তরের আগে সম্পত্তি কেনা বা বিক্রির সাথে জড়িত সমস্ত আর্থিক লেনদেন অবশ্যই সৌদি সেন্ট্রাল ব্যাংকের বিধিমালা অনুযায়ী অনুমোদিত ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। ইলেকট্রনিক পোর্টালে নিবন্ধিত যোগাযোগ মাধ্যমে বা নিবন্ধিত সৌদি মোবাইল নম্বরে টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে পাঠানো আইনি নোটিশ বৈধ বলে গণ্য হবে।
নতুন বিধিমালার অধীনে রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি দ্বারা নিযুক্ত পরিদর্শকরা নিয়ম লঙ্ঘন তদন্ত এবং নথিবদ্ধ করার এখতিয়ার পাবেন। তবে, শাস্তি আরোপের আগে লঙ্ঘনের ধরনের ওপর ভিত্তি করে লঙ্ঘনকারীকে ভুল সংশোধনের জন্য ১০ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে।
নতুন আইন অনুযায়ী, যেসব বিদেশি ক্রেতা সম্পত্তির মালিকানা অধিকার পাওয়ার জন্য মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য জমা দেবেন, তাদের সম্পত্তির মূল্যের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে, যার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১ কোটি রিয়াল পর্যন্ত।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D