ছাতকে করোনাযুদ্ধে ১৪ ডাক্তার-স্বাস্থ্য সহকারী

প্রকাশিত: ১:০৯ পূর্বাহ্ণ, মে ১৭, ২০২০

ছাতকে করোনাযুদ্ধে ১৪ ডাক্তার-স্বাস্থ্য সহকারী

বর্তমান বৈশ্বিক মহামারি করোনা। আর সেই ভাইরাস মোকাবেলায় সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছেন ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। সারা দেশের ন্যায় ছাতকেও ডাক্তাররা তাদের কার্যক্রমে কৃতিত্বের দাবী রাখেন। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে স্থানান্তর, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণসহ প্রতিদিনই চলছে তাদের নমুনা সংগ্রহের কাজ। গত ১৫ এপ্রিল সিলেটে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ছাতকের কৃতি সন্তান সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন অকালে মারা যান। তার মৃত্যুতে এখানকার ডাক্তারদের হৃদয়ে একটি বড় ধরণের ক্ষতের সৃষ্টি হয় । তার পরও তারা দৃঢ় মনোবল নিয়ে এ উপজেলায় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ছাতক ও কৈতক হাসপাতালের ১৪ জন ডাক্তার ও স্বাস্থ্য সহকারীদের নিয়ে ৩টি টিম রুটিন মাফিক কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে।


প্রবাসীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রবেশ করা লোকজনদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে গ্রামে-গ্রামে ছুটে যেতে হচ্ছে তাদের। এসব কাজে স্বাস্থ্য বিভাগকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. তোফায়েল আহমদ সনি মৃত্যুঝুঁকি উপেক্ষা করে বাড়ী বাড়ী গিয়েও নমুনা সংগ্রহ করছেন। এ পর্যন্ত একাই তিনি অর্ধশতাধিক ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ডা. তোফায়েল আহমদ সনি বলেন, ডাক্তার মানেই সেবক। এ মহামারী দুর্যোগের সময় কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতে হবে।


উপজেলার কৈতক হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মোজাহারুল ইসলাম। হাসপাতাল ও নিজ চেম্বারে প্রতিদিন তিনি শত-শত রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাধ্যমতো। সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছেন হত দরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে। টেলিমেডিসিন ও ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে ফ্রি সেবা দিচ্ছেন। ডা. মোজহারুল ইসলাম বলেন, মানবসেবায় জীবন উৎসর্গ করেছি। চিকিৎসা পেশায় আসার প্রধান কারণই হলো মানব সেবা।


এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মানিকগঞ্জ বাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি রাজিব মিয়া। প্রতিদিন তিনি গর্ভবতী মায়েদের সেবা, ডেলিভারী, পরিবার পরিকল্পনা, শিশুসহ প্রসব উত্তর সেবা দিচ্ছেন। ওই ইউনিয়নের গ্রামের লোকজন তার সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। ভাতগাঁও ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মন্ডলপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি এমদাদ হোসেন মিলন। প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাজীব চক্রবর্ত্তী বলেন, স্থানীয় এমপি মুহিবুর রহমান মানিক উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে সবসময় পরামর্শ ও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ গোলাম কবির জানান, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই আমরা এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারবো। তবে, সবার মতামত এখানকার বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অব্যাহত মেডিকেল কার্যক্রমের পাশাপাশি অবশ্যই সকলকে সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট