কোম্পানীগঞ্জের একটি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিল ৭৭ জন পরীক্ষার্থী

প্রকাশিত: ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২০

কোম্পানীগঞ্জের একটি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিল ৭৭ জন পরীক্ষার্থী

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের একটি কেন্দ্রে ২০২০ সালের বদলে পুরানো সিলেবাস ভিত্তিক প্রশ্নপত্রে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিলেও সেই কেন্দ্র সচিবের দাবি, বোর্ড থেকে যেভাবে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে সেভাবেই বিতরণ করা হয়েছে। আর প্রশ্নপত্রের সৃজনশীল অংশে ‘২০২০ সালের সিলেবাস অনুযায়ী’ লেখা ছিল, ভিতরে নৈর্ব্যক্তিক অংশে ২০১৮ সাল লেখা থাকলেও তা কারও নজরে পড়েনি।

সোমবার পরীক্ষা শুরুর দিনে উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের কলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৭৭ জন পরীক্ষার্থীর বাংলা প্রথম পত্র বিষয়ের নৈর্ব্যক্তিক অংশের পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্রে নেয়া হয়। বিষয়টি প্রথমে ধরা পড়েনি। মঙ্গলবার তা প্রকাশ পাওয়ার পর উদ্বিগ্ন রয়েছেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা সকলেই ভাটরাই উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন সোমবার কলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০১৮ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দিয়ে (অবজেক্টিভ) ৭৭ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়া হয়। বিষয়টি পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দেখালে তাদের কিছু করার নেই বলে জানান।

এ বিষয়ে এক শিক্ষক বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ প্রশ্নপত্র যেভাবে সরবরাহ করেছেন আমরা সেভাবেই বিতরণ করেছি। প্রশ্নপত্রের সৃজনশীল অংশে ‘২০২০ সালের সিলেবাস অনুযায়ী’ লেখা ছিল। ভিতরে নৈর্ব্যক্তিক অংশে ২০১৮ সাল লেখা থাকলেও কারও নজরে পড়েনি। তিনি বলেন, ৭৭ জন পরীক্ষার্থী এই ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। তারা সবাই ভাটরাই স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী।

কেন্দ্রসচিব ও কলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন দাবি করেন, বোর্ড থেকে সরবরাহ করা বাংলা প্রথমপত্র নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের একটি প্যাকেটে ভুলক্রমে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। শিক্ষকরা বিষয়টি বুঝতে পারেনি। পরীক্ষা শেষে খাতা যাচাই-বাছাইয়ের সময় ভুলটি ধরা পড়ে। তার দাবি, বোর্ড থেকে সরবরাহ করা খামে চার সেটের প্রশ্নপত্র ঠিক আছে কিনা শিক্ষকরা দেখেছেন। সেখানে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থাকার বিষয়টি কেউ খেয়াল করেনি।

এদিকে, প্রশ্নপত্রে ভুলের খবরে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উদ্বিগ্ন পরীক্ষার্থীদের শঙ্কা, ভুলের কারণে তারা নম্বর কম পেতে পারে কিংবা ফেলও করতে পারে। ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী সাব্বির, শাওন, কাউছার, জোবায়ের, আলী হোসেন, মিজান, এনামুল, বিষ্ণ দেবনাথ, সোহান ও আব্দুল আলীম জানায়, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ভুল প্রশ্নপত্রের বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আনা হলেও বিষয়টি তখন আমলে নেয়া হয়নি। তারা বলেন, ভুলপ্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহনের ঘটনায় তারা সবাই উদ্বিগ্ন। জীবনের প্রথম একটা সার্টিফিকেট পরীক্ষায় এরকম একটা ঘটনা কেউ মেনে নিতে পারছে না।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তদন্ত করে বলতে পারব কি ঘটেছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট