সাত খুন মামলার আইনজীবীর মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১:২৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০১৭

সাত খুন মামলার আইনজীবীর মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ : জেলার আলোচিত সাত খুন মামলার আপিলের রায়ের মাত্র একদিন পর নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এসএম ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তিকে (১৮) অপহরণের উদ্দেশে জোর করে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের বিপরীতে একটি কোচিং সেন্টার থেকে বের হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তার মা সেলিনা ওয়াজেদ মিনু জানান, তার মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তি একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের এ লেভেলের ছাত্রী। সে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের পাশে তাদেরই এক আত্মীয়ের কোচিং সেন্টার- তৌহিদ টিউটোরিয়াল কোচিং সেন্টারে ক্লাস করে। বুধবার সন্ধ্যায় কোচিং শেষে সে বের হয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা হয়।

কোচিং সেন্টার থেকে নেমে রাস্তা নামা মাত্র মধ্যবয়সী তিন ব্যক্তি এসে তার পথরোধ করে দাঁড়ায়। তারা তাকে বলে আমরা তোমার বাবার বন্ধু। তোমার বাবা ৭ খুনের মামলায় যা করেছেন তাতে রায় উচ্চ আদালতেও আসামিদের সাজা বহাল রয়েছে। এজন্য তোমাকে মিষ্টি খাওয়ানো দরকার। এই বলে তারা একটি প্যাকেট খোলে। এসময় প্রাপ্তি বলে আংকেল আমি বাইরের কিছু খাইনা।

একপর্যায়ে জোর করে একজন তার মুখে মিষ্টি জাতীয় কিছু ঢুকিয়ে দেয়। আরেকজন তার মুখে পানি দিয়ে দেয়। এসময় প্রাপ্তি চিৎকার শুরু করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। এরপর স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রাত সোয়া ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে জরুরি বিভাগে চিকিৎসকরা তার পাকস্থলী ওয়াশ শেষে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করান।

প্রাপ্তির বাবা এসএম ওয়াজেদ আলীর ধারণা, সাত খুন মামলার আসামিপক্ষ তার প্রতি আক্রোশের বশবর্তী হয়ে তার মেয়েকে অপহরণের উদ্দেশে বিষ জাতীয় কিছু খাইয়ে দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেনশাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলেও পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে মেয়েটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. একেএম তারেক বলেন, স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী মেয়েটির স্টমাক পেট করা হয়েছে। তাকে হাসপাতলে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে মেয়েটি শঙ্কামুক্ত।

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট