১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:২২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)-এর হালনাগাদ করা ভোটার তালিকা থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯০ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে, যা রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ। এ ঘটনায় উদ্বেগ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
উত্তর ২৪ পরগনার গোবিন্দপুর গ্রামের ৭৩ বছর বয়সী নবীজান মণ্ডল গত ৫০ বছর ধরে নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। কিন্তু আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রকাশিত নতুন তালিকায় তার নাম না থাকায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে ফল ঘোষণার কথা রয়েছে।
নবীজানের পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম তালিকায় থাকলেও শুধুমাত্র তিনি বাদ পড়েছেন। জানা গেছে, তার ভোটার কার্ডে নাম ‘নবীজান’ থাকলেও আধার ও রেশন কার্ডে নাম রয়েছে ‘নবীরুল’। নামের এই অমিলই তার ভোটাধিকার হারানোর কারণ হয়েছে।
ইসিআই ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করেছে। এতে প্রায় ৬০ লাখ ভোটারকে ‘মৃত’ বা ‘অনুপস্থিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ৩০ লাখ ভোটারকে ট্রাইব্যুনালে শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ভোটাধিকার থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
এদিকে আল জাজিরা-এর এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় মুসলিম ভোটাররাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিশেষ করে মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে ব্যাপক হারে নাম কাটা গেছে। মুর্শিদাবাদে ৪ লাখ ৬০ হাজার, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩ লাখ ৩০ হাজার এবং মালদায় ২ লাখ ৪০ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় আড়াই কোটি মুসলিম বাস করেন, যা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ। এটি ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত রাজ্য।
রাজ্যটি বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনে রয়েছে। অপরদিকে বিরোধী দল ও মুসলিম সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদি-এর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-কে সুবিধা দিতেই পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইসিআই জানিয়েছে, ভুয়া ও মৃত ভোটার বাদ দেওয়া এবং প্রকৃত ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করতেই এই হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যেসব ভোটারের মামলা এখনো ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে, তারা আসন্ন এপ্রিলের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। তবে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
নবীজান মণ্ডল বলেন, ‘আমার পরিবারের সবাই ভোট দিতে পারবে, শুধু আমি পারব না। নামের অমিলের কারণে এমন হবে, তা কখনো ভাবিনি।’
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন বড় পরিসরে ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D