চট্টগ্রামে ভবন ভাড়া নিয়ে ক্যাসিনো ব্যবসা, পাঁচ দেশের ৬৩ বিদেশি নাগরিক আটক

প্রকাশিত: ৭:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

চট্টগ্রামে ভবন ভাড়া নিয়ে ক্যাসিনো ব্যবসা, পাঁচ দেশের ৬৩ বিদেশি নাগরিক আটক

চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানাধীন পশ্চিম জালালাবাদ এলাকায় একটি আটতলা ভবনজুড়ে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়ার আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে ওই ভবন থেকে পাঁচ দেশের ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক, ক্যাসিনোর ব্যবহৃত সরঞ্জাম, ১৩১টি মোবাইল ফোন ও ১৭০টি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান চালায়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পশ্চিম জালালাবাদ এলাকার ওই ভবনে অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে পুরো আটতলা ভবন ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভবনটিতে লাওস, পাকিস্তান, চীন, ভিয়েতনাম ও নেপালের নাগরিকরা অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের একজন এবং ভিয়েতনামের একজন রয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

অভিযানে থাকা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, অভিযানে ১৩১টি মোবাইল ফোন ও ১৭০টা ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও ক্যাসিনো খেলার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক ৬৩ বিদেশি নাগরিকের মধ্যে ৪১ জন পুরুষ, ২১ জন নারী ও একজন শিশু রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত প্রায় এক মাস ধরে ওই ভবনে বিদেশি নাগরিকদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন সময় বিদেশিদের আসা-যাওয়া দেখা গেলেও ভবনটির ভেতরে কী ধরনের কার্যক্রম চলছিল, তা নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন না স্থানীয়রা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, ভবনটি ভাড়া নিয়ে সেখানে সংগঠিতভাবে ক্যাসিনো বা জুয়া কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ভবনটিতে ঠিক কী ধরনের কার্যক্রম চলছিল, বিদেশি নাগরিকরা কী উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন এবং এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় বা বিদেশি আর কারা জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আরও কেউ আটক হয়েছেন কি না, ভবন থেকে কী পরিমাণ সরঞ্জাম বা অর্থ উদ্ধার হয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না—তা অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও তাদের ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ফলে ভবনের ভেতরের অবকাঠামো, কথিত জুয়া বা ক্যাসিনো পরিচালনার কোনো সরঞ্জাম ছিল কি না—তা সরেজমিনে দেখা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযান চলাকালে ভবনের ভেতরের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ফলে বিদেশি নাগরিকদের ওই ভবনে অবস্থানের উদ্দেশ্য, কথিত জুয়া বা ক্যাসিনো কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা এবং বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের বিষয়গুলো এখনো তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের পর্যায়ে রয়েছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট