৫ বছরেও শেষ হয়নি সুনামগঞ্জে সোমেশ্বরী সেতুর কাজ

প্রকাশিত: ১০:২৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

৫ বছরেও শেষ হয়নি সুনামগঞ্জে সোমেশ্বরী সেতুর কাজ

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বাসিন্দাদের স্বপ্নের সেতু এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম সোমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মাণাধীন কায়েতকান্দা সেতুর কাজ দীর্ঘ ২১ মাস ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে পাঁচ বছর হতে চললেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ৪৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩২০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ধীরগতি ও পরবর্তীতে কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বরে শ্রমিকরা কাজ ফেলে চলে যাওয়ার পর থেকে নির্মাণস্থলটি ভূতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডির তদারকির অভাবেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই তালবাহানা করার সুযোগ পেয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর কাজ মাত্র ৬০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। নদীর ওপর পিলারের কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান নূর নবী তালুকদার জানান, উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের এই জনপদের মানুষকে চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চামরদানী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম জিলানী বলেন, বর্ষার মৌসুমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নৌকায় যাতায়াত করতে গিয়ে জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়।

এলজিইডির ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন জানান, বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও কাজ শেষ না করায় তমা কনস্ট্রাকশনের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন মধ্যনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ইউএনও জনি রায়।

তবে নতুন ঠিকাদার নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত হাওরবেষ্টিত এই জনপদের মানুষের ভোগান্তি কমার কোনো লক্ষণ নেই।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট