২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৩৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২৪
সিলেটে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। পবিত্র রমজান মাসে এই লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরীর বাসিন্দারা। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। গত কয়েকদিন ধরে এ সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ যেন আসা-যাওয়ার খেলা। আর বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে নগরীতে সিটি কর্পোরেশনের পানি সরবরাহও বিঘ্নিত হচ্ছে।
চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম সরবরাহের কারণে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, সিলেট অঞ্চলে বর্তমানে চাহিদা রয়েছে ১৪০-১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সেখানে ঘাটতি রয়েছে ৪০-৬০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম পাওয়ার কারণে এতো বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়াও অর্থনৈতিক মন্দভাবের কারণে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন কম হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের মধ্যে গত তিনদিনের মধ্যে ২ মার্চ মঙ্গলবার বিদ্যুতের চাহিদা ছিলো ১৪১ মেগাওয়াট আর সরবরাহ করা হয়েছে ৫৬ মেগাওয়াট। এদিন ৪০ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিলো। পরদিন ৩ মার্চ বুধবার চাহিদার পরিমাণ ছিলো ১২০ থেকে ১৩০ মেগাওয়াট। সেখানে পাওয়া যায় মাত্র ৬৬ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দেখা যায় ৪৫ মেগাওয়াট।
বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) সিলেটে বিকাল অব্দি বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৫ মেগাওয়াট। তার বিপরীতে সরবরাহ ছিলো ৬৯ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিলো ৬৬ মেগাওয়াট।
এদিকে, আর কয়দিন পর পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরাও নিজদের মার্কেট শপিংমল ও দোকানপাঠে করেছেন আলোকসজ্জা। কিন্তু দিন ও রাতের বেশিরভাগ সময় লোডশেডিংয়ের কবলে থাকায় জেনারেটর দিয়ে চলছে তাদের ব্যবসা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং। এমনকি সেহরি ও ইফতারে করা হচ্ছে লোডশেডিং। মোমবাতি, মোবাইল চার্জার জ্বালিয়ে সিলেটবাসীকে রমজান পালন করতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
গোলাপগঞ্জের মো.জাকির আহমদ বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সব থেকে বেশি ভুক্তভোগী। সামনে আসছে গরমের দিন লোডশেডিং আরও বেশি বৃদ্ধি পাবে। দেশের অন্যান্য জায়গা থেকে সিলেটে কলকারখানা তুলনামূলক অনেক কম তবুও আমরা বিদ্যুতের ভেলকিবাজি থেকে মুক্তি পাচ্ছি না।’
সিলেট নগরীর লালা দিঘীরপাড়ের গৃহবধূ আইরিন সুলতানা নিপা জানান, ‘সকালে ঘুম থেকে ওঠার আগেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এরমধ্যে গরমে ভোগান্তি। একয়দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে বাসায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ইফতার ও সেহরির আগে বিদ্যুৎ চলে যায়। এমন সময়ও যে বিদ্যুৎ চলে যাবে তা ভাবতেই অনেক খারাপ লাগে।’
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি তাহমিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানান, ‘ঝড়ের পর সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। সেটি মেনে নেয়া যায়। কিন্তু সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর লোডশেডিং মেনে নেয়া যায় না। এক বছর পর ব্যবসায়ীরা একটি ঈদ পান। আর এতে লোডশেডিং হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগের পাশাপাশি লোকসানেও পড়ছেন। এই অবস্থায় ক্রেতা ও বিক্রেতারাও স্বস্তিতে নেই বলে জানান তিনি।
এব্যাপারে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো. জারজিসুর রহমান রনি জানান, ‘চাহিদার তুলনায় প্রতিদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ কম হচ্ছে। চাইলেও তারা তা দিয়ে ফুসিয়ে উঠতে পারছেন না।তাই বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হয়। বৃহস্পতিবার বিকাল অব্দি আমাদের চাহিদা ছিল ১৩৫ মেগাওয়াট।তার বিপরীতে সরবরাহ ছিলো ৬৯ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিলো ৬৬ মেগাওয়াট। আমরা যতটুকু বিদ্যুৎ পাচ্ছি তা সকল বিতরণ বিভাগকে সমানভাবে ভাগ করে দিচ্ছি। আমাদের লাইন বা অন্য কোন সমস্যা নেই। ডলার, কয়লা সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে।’
এদিকে, লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যেও বাড়ছে ক্ষোভ। বিদ্যুতের দাবিতে গত ২ মার্চ মঙ্গলবার রাতে সড়ক অবরোধ করেছেন সিলেটের ওসমানীনগরের গ্রাহকরা। এরআগের রাতে দক্ষিণ সুরমায় পিডিবির অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিতের ঘটনাও ঘটেছে। এমন অবস্থায় পিডিবিরি সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের পক্ষ থেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর ফেসবুক পেজ থেকে দেয়া পোস্টে বলা হয়- ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় লোডশেডিং এর পরিমান ক্রমাগত বাড়ছে। এতে বিতরণ ব্যবস্থার কোন দায় নেই। বিতরন অঞ্চল, সিলেট এর আওতাধীন সকল দপ্তর শুধু বিদ্যুৎ বিতরন করে। জেনারেশন না থাকলে বিদ্যুৎ এর লোডশেডিং থাকবে। গ্রাহকদের প্রতি অনুরোধ বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করুন। বিদ্যুৎ বিতরণকারী দপ্তর ও এর বিদ্যুৎ কর্মীদের সাথে বাজে আচরণ এবং অযথা বাজে ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।’
এরআগে ৩ এপ্রিল বুধবার একই পেজ থেকে দেয়া পোস্টে উল্লেখ করা হয়- ‘বরাদ্দের তুলনায় বিদ্যুৎ প্রাপ্তি কম হওয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রচন্ডভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সম্মানিত গ্রাহকগণকে ধৈর্য্য ধারণের অনুরোধ করছি।’
এ ব্যাপারে পিডিবি, সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির বলেন, ঈদের মৌসুম হওয়ায় বিপতিবিতানসহ অনেকস্থানে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ফলে শহর অঞ্চলে এখন বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। এছাড়া গরমও অনেক বেড়েছে। কিন্তু চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন কম হচ্ছে। তাই সরবরাহ কমে গেছে। একারণে লোডশেডিং বেড়ে গেছে। গরম আরও বাড়লে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন- সিলেটের একটিসহ দেশের তিনটি পাওয়ার স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এ কারণে উৎপাদনে ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। গতকাল সিলেটে ৫৩ শতাংশ লোডশেডিং হয়েছে বলে জানান তিনি।
শহর এলাকায় চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ না মিললেও বৃহস্পতিবার গ্রামাঞ্চলের চিত্র তুলনামূলক ভালো ছিলো। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার মো আখতারুজ্জামান লস্কর জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে তার আওতাধীন এলাকায় চাহিদা ছিলো ৬৪ মেঘাওয়াট আর বরাদ্ধ মিলেছে ৫৩ মেঘাওয়াট। অপরদিকে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার সঞ্জিব কুমার রায় জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে ২৭ মেঘাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে ২৩ মেঘাওয়াট।
পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ও যোগানের তেমন পার্থক্য না থাকলেও ভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়েছেন গ্রাহকরা। সিলেটের বিশ্বনাথের রামপাশা এলাকার গ্রাহক দিপক দেব বলেন, বৃষ্টি একটু বাতাস শুরু হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়। কখনো সারারাতও বিদ্যুৎ থাকে না।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D