কোনো মাখলুকের শক্তি নেই ‘দ্বীনের’ কাজে বাঁধা প্রদানের

প্রকাশিত: ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২২

কোনো মাখলুকের শক্তি নেই ‘দ্বীনের’ কাজে বাঁধা প্রদানের

আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর, ওলি ইবনে ওলি আল্লামা মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক পীর সাহেব বরুণা বলেন, একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই আমাদের আপন। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আপন হিসেবে কবুল করুন।

সখ পূর্ণ করার নাম দ্বীন নয়, সখ ছিল ইজতেমায় আসা, আসলেন। এটা যেনো না হয়, ইত্তেবা’ তথা আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচেয়ে বেশী প্রিয় হল ‘দ্বীনে ইসলাম’ তাই আল্লাহর প্রিয়টাকে টিকিয়ে রাখা আর আল্লাহ ও রাসুলের অনুস্মরণ করার নাম দ্বীন।

তিনি আরও বলেন, সাহাবায়ে কেরাম অনুস্মরণ করে এমন প্রতিদান পেয়েছেন যার ফলে স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা হেসেছেন। কুরআনের আয়াত নাজিল হয়েছে ‘ইয়াদুল্লাহি ফাওক্বা আইদিহিম’ অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার কুদরতি হাত তাদের (সাহাবাদের) হাতের উপর।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দ্বীনের জন্য জান মাল।কুরবান তথা উৎস্বর্গ করার তাওফিক দান করুন।

বাদ মাগরীব জামিয়া মাদানিয়া আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর এর মহাপরিচালক আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দিন এর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) বাদ মাগরীব ইসলাহি বয়ানে তিনি একথা বলেন।

বাদ এশা গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন, আওলাদে রাসূল আল্লামা মাহমুদ মাদানী ভারত।

এর আগে আল্লামা নুরুল ইসলাম খান বয়ানে উপমা দিতে গিয়ে বলেন, পারস্য বিজয়ী হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা. কাফের সেনাদের লক্ষ্য করে বললেন, আমি আমার ঘোড়া দাজলার নদীতে ছেড়ে দিলেন। সমুদ্রের শক্তি নেই, নেই পানির শক্তি ডুবিয়ে মারার।

আল্লাহর ওপর ভরসা করে সেজদায় চোখের জল ফেলে দোয়া করেছিলেন বলেই বিজয়ী হয়েছিলেন নবীর সাহাবারা।

আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের ইজতেমা আজ হচ্ছে আল্লাহর ওপর ভরসা করে হচ্ছে। মাখলুকের কোনো শক্তি নেই দ্বীনের পথে বাঁধা প্রদানের। সত্যের ঝাঁণ্ডা নিয়ে অগ্রসর হতে থাকুন মুফতি সাহেব। লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ আপনার পেছনে আছে।

বাদ আসর বয়ানে মুফতি আব্দুল মতীন পীর সাহেব ঢালকানগরী বলেন, উলামায়ে দেওবন্দের অনুস্মরণ করলে জীবনে শান্তি পাবেন। কারণ দুধওয়ালার কাছে আপনি দুধ পাবেন, আল্লাহওয়ালার কাছে আল্লাহকে পাবেন।

আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ৭৭বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আজিমুশ্বান ইজতেমার আনুষ্ঠানিক পর্বের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর ১ম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা সাইদুর রহমান বর্ণভী। উদ্বোধনী বয়ান পেশ করেন সংগঠনের আমির মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী।
এরপর প্রথম অধিবেশনে ধারাবাহিকভাবে বয়ান পেশ করেন, মাওলানা শামসুদ্দিন কাসেমি (জামালপুর), মাওলানা মুহাম্মদ আলী (সিরাজগঞ্জ) ও মাওলানা ইমাম হোসাইন (জামালপুর)। কিছুক্ষণ বিরতির পর শুরু হয় দ্বিতীয় অধিবেশন। এতে ধারাবাহিকভাবে সভাপতিত্ব করেন মাও. মুহিব্বুল হক (গাছবাড়ী, মাও. মুহিউল ইসলাম বুরহান (রেঙ্গা), মাও. আব্দুল কাদির (বাঘরখালী), মাও. হুসাইন নূরী চৌধুরী (নবীগঞ্জ), মাও. মজদুদ্দিন (ভার্থখলা) ও মাও. এমদাদুল্লাহ (কাতিয়া)। বয়ান পেশ করেন মাও. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ হাসান (বাহাদুরপুর), মাও. আব্দুল হামিদ (মধুপুরী), মাও. জিকরুল্লাহ খান (ঢাকা), মুফতি ফয়জুল্লাহ ছাহেবযাদা বেলায়াত রহ. (ঢাকা), ড. মুশতাক আহমদ (ঢাকা), মাও. সাজিদুর রহমান (বি-বাড়ীয়া), মাও. মুশতাক আহমদ (খুলনা), মাও. হামিদ জাহেরী (ঢাকা), মাও. গোলামুর রহমান (খুলনা), মাও. জালাল আহমদ (সাতক্ষীরা), মাও. উবায়দুর রহমান মাহবুব (বরিশাল), মাওলানা আনাছ সাহেব (ভোলা), মাও. আব্দুল মালিক (ভোলা), মাও. আব্দুল বাসিত খান (সিরাজগঞ্জ) ও মাও. আকরাম আলী (মাদারীপুর)।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় প্রথম দিনের কর্মসূচি সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সন্ধ্যায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইজতেমায় আসা গাড়িবহর সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের বাইপাসের মুখে আটকে দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। ইজতেমার আশপাশে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে যাতে বিশৃঙ্খলা বা যানজট তৈরি না হয় সেজন্য এমনটি করা হচ্ছে।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় আখেরী মোনাজাতের মধ্যদিয়ে আজিমুশ্বান ইজতেমার সমাপ্তি ঘটবে।



সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট