সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কার্যক্রম চালুর দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ১০:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৬

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কার্যক্রম চালুর দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের বিক্ষোভ

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে অবিলম্বে হাসপাতালের কার্যক্রম চালু, প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল ক্লাস নিশ্চিত করা এবং শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তাঁরা একাডেমিক ভবনে তালাও ঝুলিয়ে দেন। এ সময় শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ফোনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পর্যায়ক্রমে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। তবে আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, আগামীকাল বুধবার সকালে ক্যাম্পাসে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৫০০ শয্যার হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রায় এক বছর ধরে হাসপাতালটি চালু করা হচ্ছে না। ফলে তাঁরা প্রয়োজনীয় হাতে-কলমে চিকিৎসা শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে জেলার সাধারণ মানুষও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পাচ্ছেন না।

তাঁদের মতে, হাসপাতাল চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক জটিলতা ও গড়িমসির কারণে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি জনগণও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত থাকছেন।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুস্তাক আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে শূন্য থাকা শিক্ষকদের পদের তালিকা চাওয়া হয়েছে এবং দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে ইতিবাচক নির্দেশনা পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটি জেলা শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার মদনপুর এলাকায় নির্মিত স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে কলেজটিতে পাঁচটি ব্যাচে শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করছেন।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট