২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:০৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৬
মঙ্গলগ্রহ থেকে পৃথিবীতে এসে পড়া একটি বিরল উল্কাপিণ্ডের ভেতরে প্রথমবারের মতো গারনেটজাতীয় মূল্যবান খনিজের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার লাল গ্রহের প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কানাডার রয়্যাল অন্টারিও জাদুঘরে সংরক্ষিত এনডব্লিউএ–৮১৭১ নামের উল্কাপিণ্ডটি পরীক্ষা করে আন্তর্জাতিক গবেষক দল এর ভেতরে অ্যান্ড্রাডাইট নামে এক ধরনের গারনেট খনিজের ক্ষুদ্র কণা শনাক্ত করেছে। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সমীক্ষিত বৈজ্ঞানিক সাময়িকী জিওকেমিক্যাল পার্সপেকটিভস লেটার্স-এ।
গবেষকদের মতে, পৃথিবীতে অ্যান্ড্রাডাইট সাধারণত অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা, প্রবল চাপ কিংবা রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হয়। তাই মঙ্গলের একটি শিলাখণ্ডে এ ধরনের খনিজের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অতীতে লাল গ্রহেও এমন পরিবেশ বা ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া সক্রিয় ছিল, যা বর্তমান মডেলগুলো পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারে না।
এনডব্লিউএ–৮১৭১ একটি ‘ব্রেচিয়া’ ধরনের শিলা, অর্থাৎ বিভিন্ন ভগ্নাংশ একত্রিত হয়ে এটি গঠিত হয়েছে। ফলে বিজ্ঞানীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, গারনেটটি সত্যিই মঙ্গলের নিজস্ব কি না, নাকি কোনো প্রাচীন গ্রহাণুর আঘাতে মহাকাশের অন্য কোথাও থেকে এসে মঙ্গলের পৃষ্ঠে মিশে গিয়েছিল।
গবেষণায় পাওয়া গারনেটের দানাগুলো ছিল অত্যন্ত ক্ষুদ্র—প্রায় ০ দশমিক ৮ মিলিমিটার দৈর্ঘ্য এবং ০ দশমিক ৫ মিলিমিটার প্রস্থের। প্রথমে বিজ্ঞানীরা এগুলোকে মঙ্গলের শিলায় প্রচলিত পাইরক্সিন খনিজ বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী রাসায়নিক বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায়, এগুলো আসলে গারনেট। ফলে এনডব্লিউএ–৮১৭১ এখন পর্যন্ত একমাত্র পরিচিত মঙ্গলীয় উল্কাপিণ্ড, যাতে নিশ্চিতভাবে গারনেটের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহবিজ্ঞানী জেমস ডার্লিং এক বিবৃতিতে বলেন, এই আবিষ্কার মঙ্গলের ভূতত্ত্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং প্রতিবেশী গ্রহটির বিবর্তন নিয়ে গবেষণার জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তাঁর মতে, এই গারনেটের মাধ্যমে মঙ্গলের ভূত্বকে অতীতে ঘটে যাওয়া তাপ, চাপ ও রাসায়নিক পরিবর্তনের নানা অধ্যায় সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।
গবেষক দল মনে করছে, এনডব্লিউএ–৮১৭১ সম্ভবত মঙ্গলগ্রহের এমন একটি শিলার প্রতিনিধিত্ব করছে, যার অস্তিত্ব আগে জানা ছিল না। এটি গত সাড়ে চারশ কোটি বছরে মঙ্গল কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মঙ্গলগ্রহের উল্কাপিণ্ড অত্যন্ত বিরল। ২০২৪ সালের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন সংগ্রহে থাকা কয়েক হাজার উল্কাপিণ্ডের মধ্যে মাত্র কয়েকশটিকে মঙ্গলগ্রহ থেকে আসা নমুনা হিসেবে শনাক্ত করা গেছে। এগুলো কোনো এক সময় শক্তিশালী সংঘর্ষের ফলে মঙ্গল থেকে ছিটকে বেরিয়ে এসে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীতে পৌঁছেছে।
মঙ্গলের রোভার ও কক্ষপথযানগুলো দূর থেকে তথ্য পাঠালেও, উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর উন্নত গবেষণাগারে সরাসরি মঙ্গলগ্রহের পদার্থ বিশ্লেষণের সুযোগ পান। আর সেই বিশেষ তালিকায় নতুন সংযোজন এনডব্লিউএ–৮১৭১, যা প্রথমবারের মতো মঙ্গলের বুকে গারনেটের অস্তিত্বের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বহন করছে। সূত্র : ইয়াহু

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D