গোলাপগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় একজনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৭, ২০২১

গোলাপগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় একজনের মৃত্যু

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে এক মোটরসাইকেল মেকানিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম আব্দুস সালাম (৫০)। তিনি উপজেলার লক্ষিপাশা ইউনিয়নের রামপা দক্ষিণ ভাগ এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় আহত ৫ জন পুলিশ সদস্যকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের জেলা ইনচার্জ এসআই জনি চৌধুরী একজনের মৃত্যু ও পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে একজন ইন্সপেক্টর, দুইজন এএসআই ও একজন কনস্টেবল রয়েছে। রাত সাড়ে ১০টায় আব্দুস সালামকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আব্দুস সালামের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা। তার মরদদেহ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নে দুটি ভোটকেন্দ্রের উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে বৈটিকর এলাকায় পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় পুলিশ সহ কয়েকজন এলাকাবাসী আহত হন। আহত অবস্থায় আব্দুস সালাম নামের একজনের মৃত্যু হয়। তবে, তার মৃত্যু সম্পর্কে কেউ সঠিক তথ্য জানাতে পারছে না।

নিহতের ছেলে জসিম উদ্দিন জানান, গুলিবিদ্ধ হয়ে তার পিতার মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাত ৮টার দিকে ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের দুটি কেন্দ্রের ফলাফলকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এমরান হোসেনের লোকজন বইটিকর বাজারে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় থানাপুলিশ এসে তাদের সড়ক থেকে সরিতে দিতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে এমরান হোসেনের সমর্থকদের তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় পুলিশ টিয়ার সেল ও গুলি নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষকালে বইটিকর বাজারের একটি গ্যাজের মেকানিক আবদুস সালাম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হন বলে স্থানীয়রা জানান। সংঘর্ষের সময় বইটিকরের দুপাশে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক করে পুলিশ।

সংঘর্ষের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আব্দুস সালামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লক্ষীপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মুস্তাফিজুর রব। সচিবের বাড়িও রামপা গ্রামে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট