প্রেম ঘটিত কারণেই খুন হন কলেজ শিক্ষক সাইফুর

প্রকাশিত: ১১:৩৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০১৯

প্রেম ঘটিত কারণেই খুন হন কলেজ শিক্ষক সাইফুর

প্রেম ঘটিত কারণেই খুন হয়েছেন সিলেটের মদন মোহন কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের খন্ডকালিন প্রভাষক মো. সাইফুর রহমান। তাকে বিষ ও ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত সেমাই খাইয়ে অজ্ঞান করার পর নগরীর সোবহানীঘাটস্থ হোটেল মেহেরপুরের একটি কক্ষে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর লাশ দক্ষিণ সুরমার তেলিখাল এলাকায় সুনামগঞ্জ বাইপাসের পাশে ফেলে রাখা হয়।

সোমবার দুপুরে সিলেট মহানগর বিচারিক হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক সাইফুর রহমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এমন তথ্য জানান খুনে ঘটনায় গ্রেফতার মোজাম্মিল ও তার প্রেমিকা রুপা। রোববার রাতে সন্দেহভাজন হিসেবে তাদেরকে আটক করা হয়েছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদে এ খুনের সাথে তাদের সম্পৃক্ততার কথা জানালে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় তারা।

মোজাম্মিলের (২৪) গ্রামের বাড়ি ছাতক উপজেলায়। সে সিলেটের এমসি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী। আর শাহপরান এলাকার খিদিরপুর গ্রামের শফিকুর রহমানের মেয়ে নিশাত তাসনিম রুপা (২০) একই কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী। তারা দু’জনেই এমসি কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের সদস্য। অন্যদিকে নিহত সাইফুর এমসি কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের সাবেক সিনিয়র রোভার মেট ছিলেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. জেদান আল মুসা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘রোববার লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ খুনের রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে। এসময় প্রেমের বিষয়টি পুলিশের কাছে আসে। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে সন্ধ্যায় টিলাগড় এলাকা থেকে মোজ্জাম্মেল এবং রাতে বাসা থেকে রুপাকে আটক করা হয়।’

সোমবার তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার (১ এপ্রিল) নিহতের মা রনিফা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা {নং-০১ (০১/০৪/২০১৯)} দায়ের করেন। ওই মামলায় দুজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, নিখোঁজের একদিন পর দক্ষিণ সুরমা তেলিরাই বাইপাস এলাকা থেকে রোববার সকালে মো. সাইফুর রহমানের (২৯) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি সিলেট মদন মোহন কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক এবং গোয়াইনঘাটের তোয়াকুল কলেজে খন্ডকালিন শিক্ষক ছিলেন। তিনি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফলতইল সগাম গ্রামের মো. ইউসুব আলীর ছেলে।

সূত্র জানায়, গত শনিবার সকাল ১১টার দিকে টিলাগড় জমিদারবাড়ির মেস থেকে বের হন সাইফুর রহমান। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রাতেও তিনি বাসায় ফেরেননি। পরে তার আত্মীয়রা মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট