আলোর মুখ দেখার আগেই জাতীয় ঐক্যের ফাটল

প্রকাশিত: ৬:৩২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০১৮

আলোর মুখ দেখার আগেই জাতীয় ঐক্যের ফাটল

আসছে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নিজেরা একসঙ্গে কয়েকটি কর্মসূচি পালনের পর বিএনপিকেও সঙ্গে নিয়ে সরকারবিরোধী ‘ঐক্য প্রক্রিয়া’র রূপরেখা চূড়ান্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন কামাল হোসেন ও এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

কিন্তু শনিবার সেই রূপরেখা চূড়ান্তের আগেই তাতে ফাটল ধরেছে। নির্ধারিত সেই বৈঠক না হওয়ার পর দুজনের পক্ষ থেকে সন্ধ্যায় আলাদা সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।

সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং ইসি পুনর্গঠনের ৫ দফা দাবিতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর একযোগে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিল বি চৌধুরী নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট ও কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া।

তারপর তারা কয়েকটি কর্মসূচি পালন করে, যাতে ৭ দফা দাবি তুলে আসা বিএনপির নেতারাও যোগ দেন। তবে এরপরই বিএনপিকে জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে আসার শর্ত দেয় বি চৌধুরীর দল বিকল্প ধারা।

জামায়াতকে নিয়ে বিএনপির কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না আসার মধ্যেই ঐক্য প্রক্রিয়ার রূপরেখা চূড়ান্ত করতে শনিবার বিকালে কামাল হোসেনের বাড়িতে এক সঙ্গে বসার কথা ছিল যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও বিএনপি নেতাদের।

বৈঠকে যোগ দিতে যুক্তফ্রন্টের আহ্বায়ক বি চৌধুরী বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় যান ছেলে বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরীকে নিয়ে। কিন্তু বাড়ির দরজা বন্ধ দেখে গাড়িতেই কিছুক্ষণ বসে থেকে ফিরে যান তারা।

মাহি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাসায় দাওয়াত দিয়ে গেইট খোলার কেউ নেই! একজন সাবেক রাষ্ট্রপতিকে এভাবে ডেকে এক রকম ব্যবহার কোনো শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না।

মাহী বি চৌধুরী বলেছেন, কারা ঐক্য ভেঙ্গেছে তা আমরা জানি। এই ব্যাপারে বিস্তারিত সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বারিধারার পার্টি অফিসে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।

তিনি দাবি করেন, ড. কামাল হোসেন অন্যন্য নেতৃবৃন্দরা মাতিঝিলে বৈঠক করলেও তাদেরকে এই ব্যাপারে কিছুই বলা হয়নি। ‘সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আমরা সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করব’।

এদিকে বি চৌধুরী যখন তার বাড়ির ফটকে, তখন মতিঝিলে নিজের পেশাগত চেম্বারে আরেক বৈঠকে ছিলেন গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন।

ওই বৈঠকে তার সঙ্গে ছিলেন বি চৌধুরী নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের শরিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও যুক্তফ্রন্টের সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান মান্না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ছিলেন সেই বৈঠক। ওই বৈঠক থেকে সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা আসে।

দুই পক্ষ আলাদা সংবাদ সম্মেলন ডাকলেও বিভাজনের বিষয়ে কোনো পক্ষের স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট