বাবা-মায়ের দেখানো পথে দেশ চালাবেন তারেক রহমান

প্রকাশিত: ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

বাবা-মায়ের দেখানো পথে দেশ চালাবেন তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে নতুন সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথবাক্য পাঠ করে সরকার প্রধান বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর এর মধ্য দিয়ে তারেক রহমান এবং তার পরিবারের ঝুলিতে জমা হলো বিরল এক রেকর্ড।

বিশ্বে অল্প কয়েকটি রাজনৈতিক পরিবার আছে, যাদের একাধিক প্রজন্মের তিন সদস্য কোনো দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের শপথবাক্য পাঠ ও দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সেই বিরল পরিবারগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে জিয়া পরিবার। রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাবা জিয়াউর রহমান ও একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মা খালেদা জিয়ার পর এবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান।

নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বাবা প্রয়াত জিয়াউর রহমানের জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচির আলোকে এবং মা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার দেখানো পথে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা আগেই জানিয়েছেন তারেক রহমান।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অধিষ্ঠিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত জিয়াউর রহমান। প্রাথমিক তিনি সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তারপর রাষ্ট্রের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক করা হয় তাকে। বিএনপির ওয়েবসাইটে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এ এস এম সায়েম পদত্যাগ করলে জিয়াউর রহমান দেশের রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হন।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান নিজে চেয়ারম্যান হিসেবে থেকে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি গঠন করেন। ১৯৯১ সালের পর থেকে তার প্রতিষ্ঠিত এ দলটি এবার নিয়ে পাঁচবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলো। তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেন। দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তারল্য প্রবাহ এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নে মনোনিবেশ করায় তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী সদস্য নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করে।

স্বামী হারানোর পর কোনো পূর্ব রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছাড়াই যার কাঁধে এসে পড়ে দল পরিচালনার ভার, তিনি হলেন বেগম খালেদা জিয়া। সেই ভারবাহী বেগম খালেদা জিয়া নিজের প্রজ্ঞা, দৃঢ়তা ও নেতৃত্বগুণে বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় পৌঁছে দেন। দুই সন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানকে নিয়ে যার জীবন ছিল নিরাভরণ, সেই নারীই সময়ের পরিক্রমায় হয়ে ওঠেন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ও যুগান্তকারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। যুক্ত হন স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে। রাজনীতিতে এসে রাজপথের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন খালেদা জিয়া। দেশের মানুষের সঙ্গে নিবিড় বন্ধনে সম্পৃক্ত হতে তিনি চষে বেড়ান দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। যার ফলে ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে তিনিই হন দেশের ইতিহাসের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। আপসহীন নেতৃত্বে রাজনীতিতে সৃষ্টি করেন এক অনন্য অধ্যায়। দৃঢ় আপসহীন মানসিকতা আর নমনীয় আচরণের কারণে দেশের সাধারণের মনে স্থান করে নেন। যে কারণে এরপর তিন দফা সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্বে পালনের সুযোগ পেয়েছেন।

রাজনীতিবিদ হিসেবে এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে, একাধিক সাধারণ নির্বাচনে একাধিক আসনে দাঁড়িয়ে কখনোই কোনোটিতে পরাজিত হননি। গত ৩০ ডিসেম্বর আপসহীন নেত্রী হিসেবে খ্যাত খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। যিনি একটানা ২৫ বছর বিএনপি চেয়ারপারসন হিসেবে দলকে আগলে রেখে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

গত ডিসেম্বরে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন ছেড়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফিরে মায়ের মৃত্যুর পর তারেক রহমান বিএনপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তার নেতৃত্বে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এখন বাবা-মায়ের পর তিনিও দেশ পরিচালনের সুযোগ পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে তারেক রহমান রাষ্ট্র ও দল পরিচালনার কাজটি ভেতর থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের সমস্যার উদ্ভব ও সমাধানের প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেছেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে তিনি পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাস, তত্ত্ব, তথ্য, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং উন্নত বিশ্বের রাষ্ট্র পরিচালন ব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন। নিজের অভিজ্ঞতা ও মায়ের দেখানো পথ রাষ্ট্র পরিচালনায় পাথেয় হিসেবে কাজ করবে—এমন ভাষ্য তার নিজেরই।



 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট