আজ ২০২৬ সালের সবচেয়ে ছোট পূর্ণিমা ও ব্লু মুন

প্রকাশিত: ১১:০৫ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২৬

আজ ২০২৬ সালের সবচেয়ে ছোট পূর্ণিমা ও ব্লু মুন

রোববার (৩১ মে) রাতের আকাশে দেখা যাবে এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনা; ‘ব্লু মুন’। বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু ব্লু মুনই নয়; একই সঙ্গে এটি ২০২৬ সালের সবচেয়ে দূরবর্তী ও সবচেয়ে ছোট পূর্ণিমা বা ‘মাইক্রোমুন’ হিসেবেও পরিচিত। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাংলাদেশসহ এশিয়া, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ খালি চোখেই উপভোগ করতে পারবেন এই বিরল দৃশ্য।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষায়, একটি ক্যালেন্ডার মাসে দুটি পূর্ণিমা হলে দ্বিতীয় পূর্ণিমাকে ‘ব্লু মুন’ বলা হয়। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রথম পূর্ণিমা হয়েছিল ১ মে এবং দ্বিতীয় পূর্ণিমা হচ্ছে আজ ৩১ মে। এ কারণেই আজকের পূর্ণিমাটি ‘ব্লু মুন’ হিসেবে পরিচিত। এমন ঘটনা সাধারণত প্রতি দুই থেকে তিন বছর পরপর ঘটে।

তবে নামের সঙ্গে ‘ব্লু’ বা নীল শব্দটি থাকলেও চাঁদ আসলে নীল দেখাবে না। এটি স্বাভাবিক পূর্ণিমার মতোই রূপালি-সাদা বা দিগন্তের কাছে সোনালি-কমলা আভায় দৃশ্যমান হবে। ইতিহাসে কিছু বিরল ক্ষেত্রে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা বায়ুমণ্ডলে বিশেষ ধরনের ধূলিকণার কারণে চাঁদ নীলাভ দেখালেও, আজকের ব্লু মুনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

এবারের ব্লু মুনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এটি একটি ‘মাইক্রোমুন’। চাঁদ বর্তমানে পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে, যা তার গড় দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে আজকের পূর্ণিমা সাধারণ পূর্ণিমার তুলনায় সামান্য ছোট দেখাবে। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি ২০২৬ সালের সবচেয়ে দূরবর্তী পূর্ণিমা।

যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদকে প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশ ছোট এবং কিছুটা কম উজ্জ্বল দেখা যাবে, খালি চোখে সাধারণ দর্শকদের কাছে এই পার্থক্য খুব বেশি বোঝা যাবে না।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, চাঁদোদয়ের সময় অর্থাৎ সন্ধ্যার পর পূর্ব আকাশে তাকালে সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য দেখা যাবে। তখন বায়ুমণ্ডলের প্রভাবে চাঁদকে কমলা বা সোনালি আভায় দেখা যেতে পারে, যা ছবি তোলার জন্যও উপযুক্ত সময়। এই দৃশ্য উপভোগ করতে কোনো বিশেষ টেলিস্কোপ বা সুরক্ষা চশমার প্রয়োজন নেই; খালি চোখেই নিরাপদে দেখা যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের এই ব্লু মুনের পর পরবর্তী ক্যালেন্ডার ব্লু মুন দেখা যাবে ২০২৮ সালের শেষ দিকে। তাই বিরল এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগের সুযোগ হাতছাড়া না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।