সুনামগঞ্জে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, প্রতিবাদে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ

প্রকাশিত: ২:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২৬

সুনামগঞ্জে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, প্রতিবাদে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ

সুনামগঞ্জ জেলা যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও এক স্পিডবোট চালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে তাহিরপুর-মধ্যনগর নৌপথে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে স্পিডবোট চালক সমিতি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে মধ্যনগর সদর বাজারের স্পিডবোট ঘাটে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত এম শহীদ মধ্যনগর উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের দুগনই গ্রামের বাসিন্দা এবং সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক।
ভুক্তভোগী রাজু আহমেদ ও স্পিডবোট চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাহিরপুর থেকে মধ্যনগরে যাত্রী পরিবহনকারী স্পিডবোট চালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে চাঁদা আদায় করে আসছেন শহীদ ও তার সহযোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে তাহিরপুর উপজেলার স্পিডবোট চালক রাজু আহমেদ যাত্রী নিয়ে মধ্যনগর ঘাটে পৌঁছালে এম শহীদ তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। হঠাৎ এত বড় অঙ্কের টাকা দাবি করায় রাজু চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রাজু তাহিরপুরে ফিরে এসে বিষয়টি স্পিডবোট চালক সমিতিকে অবহিত করেন। ঘটনার পর চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

তাহিরপুর স্পিডবোট চালক সমিতির সভাপতি হবিব মিয়া বলেন, আমাদের চালকদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ রাজু আহমেদের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাহিরপুর-মধ্যনগর রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকবে।

এদিকে, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মামুনুর রশিদ কয়েস বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। যদি কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সত্যতা পাওয়া যায়; তাহলে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দলীয় নীতি-আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ড ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এম শহীদকে যুবদলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে পরে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নেতারা বিষয়টি পর্যালোচনা করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা এম শহীদের কাছে জানতে চেয়ে একাধিকবার মোবাইলে কল করলেও তার মোবাইল বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট