সিলেটে ব্যবসায়ীর উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ৫

প্রকাশিত: ১১:০৭ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২৬

সিলেটে ব্যবসায়ীর উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ৫

সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় মুদি দোকানদারকে মারধর ও দোকানে লুটপাটের ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছ। পুলিশ ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।

মারধরের শিকার দোকান মালিক খগেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে রুবেল দাস বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৯ মে) রাত প্রায় ৮টার দিকে শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকার মুদি দোকান ‘রাণী স্টোর’ থেকে কোমল পানীয় কিনে নিয়ে যায় আট বছর বয়সী এক শিশু। সে সময় দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকায় শিশুটিকে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। পরে পণ্য কিনে শিশুটি চলে যায়।

কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা দোকানে এসে কেন দেরি হয়েছে তা জানতে চান। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগ তুলেন, দোকানদার শিশুটির শরীরে স্পর্শ করেছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই আশপাশের সংঘবদ্ধ কয়েকজন লোক দোকানে জড়ো হয়। একপর্যায়ে তারা দোকান মালিক খগেন্দ্র চন্দ্র দাসের ওপর হামলা চালায়। লাথি-ঘুষি ও এলোপাতাড়ি মারধরে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঘটনার পরপরই পুলিশ দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। ফুটেজ পর্যালোচনা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ মনজুরুল আলম বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, অভিযোগে উল্লিখিত শ্লীলতাহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। যাচাই-বাছাই ছাড়াই গুজব ও সন্দেহের ভিত্তিতে এক বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়েছে। এটি মব জাস্টিসের একটি স্পষ্ট ঘটনা।”

তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • মামলার আসামিরা হলেন- সেনপাড়ার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টুর স্ত্রী মোছাম্মৎ শিল্পী বেগম (৪২), ওহিদুল আলমের ছেলে আহম্মদ হোসেন আরিফ (২৪), মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টুর ছেলে আকাশ আহমেদ (২০), মেয়ে মোছাম্মৎ রোজী আক্তার (২০), মেয়ে রোকেয়া আক্তার (২২), মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টু (৫০), বিল্লাল মিয়ার ছেলে শোয়েব (৩০), শিবগঞ্জ খড়াদিপাড়ার মখর মোল্লা লাক্কুর ছেলে নাদিম আহমদ (২৭), ইমন (২৬), সেনপাড়ার কামাল (২৬), সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দ আবু বক্কর (২৭), দেলোয়ার (৩৫), অন্তর (২৬)সহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন।