১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৫২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৯, ২০২৬
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উপবৃত্তির অর্থ সরাসরি শিক্ষার্থীর মায়ের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
সোমবার (৯ মার্চ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে জিটুপি (গভর্নমেন্ট টু পারসন) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরাসরি অভিভাবকের হাতে উপবৃত্তির অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে কোনো শিক্ষার্থীর মা না থাকলে বাবা অথবা বৈধ অভিভাবক এ সুবিধা পাবেন।
নির্দেশিকা অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী উপবৃত্তির আওতায় আসবে। তবে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষার্থী এ সুবিধা পাবে। উপবৃত্তির অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলব্যাগ, ছাতা, পোশাক, জুতা ও টিফিন বক্সসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কিনতে পারবে।
শ্রেণিভেদে উপবৃত্তির পরিমাণও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাসে ৭৫ টাকা পাবে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী মাসে ১৫০ টাকা এবং একই পরিবারের দুইজন হলে ৩০০ টাকা পাবে। এছাড়া যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু রয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাসে ২০০ টাকা করে পাবে। একই পরিবারের দুইজন শিক্ষার্থী থাকলে এ ক্ষেত্রে মাসে ৪০০ টাকা দেওয়া হবে।
উপবৃত্তি চালু রাখতে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে। দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ শর্ত শিথিল করে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী টানা তিন মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে তার উপবৃত্তি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপবৃত্তির অর্থ বিতরণে শিক্ষার্থীর মাকে প্রধান অভিভাবক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মায়ের অনুপস্থিতিতে বাবার এবং উভয়ের অনুপস্থিতিতে বৈধ অভিভাবকের সক্রিয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ এবং অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
উপবৃত্তি বিতরণের পুরো কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে তদারকি করবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু থাকবে। এর মাধ্যমে উপবৃত্তি বিতরণের তথ্য রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, উপবৃত্তি বিতরণে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা বিচ্যুতি ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D