বিশ্বে খেলাপি ঋণে শীর্ষে বাংলাদেশ : প্রতি ১০০ টাকায় ৩৩ টাকা উধাও

প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬

বিশ্বে খেলাপি ঋণে শীর্ষে বাংলাদেশ : প্রতি ১০০ টাকায় ৩৩ টাকা উধাও

বিশ্বের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হারে এখন শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। দেশে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের মধ্যে প্রায় ৩৩ টাকাই এখন খেলাপি। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনকে পেছনে ফেলে এই নেতিবাচক মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।

তালিকার শীর্ষ পাঁচের অন্য দেশগুলো হলো যথাক্রমে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। গত তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বিশাল অংকের খেলাপি ঋণ হঠাৎ তৈরি হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবে বিভিন্ন বেনামি ঋণ ও জালিয়াতিকে বিশেষ সুবিধায় নিয়মিত দেখানো হয়েছিল।

বর্তমানে ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান ও স্বচ্ছতা নিরূপণ করায় আড়ালে থাকা সেই প্রকৃত চিত্র প্রকাশ্যে আসছে। বিশেষ করে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের অবস্থা সবচেয়ে আশঙ্কাজনক, যাদের ৮০ শতাংশের বেশি ঋণ এখন খেলাপি।

অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় এই তালিকার শীর্ষে থাকা ইউক্রেন অভাবনীয়ভাবে তাদের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটির খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩৯ শতাংশে পৌঁছালেও ঋণ অবলোপন, কঠোর আদায় প্রক্রিয়া এবং সুশাসিত নতুন ঋণ বিতরণের মাধ্যমে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তা ১২.৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।

ইউক্রেন যেখানে সঠিক নীতিমালার মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, বাংলাদেশ সেখানে পূর্বের অব্যবস্থাপনার জের ধরে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে। বর্তমানে চাদের খেলাপির হার ৩১.৫১ শতাংশ এবং ইকুয়েটোরিয়াল গিনির হার ৩০ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের এই উচ্চ হার কমিয়ে আনতে কেবল কাগজে-কলমে অবলোপন যথেষ্ট নয়। বরং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের সম্পদ জব্দ, দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইনি সংস্কারের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতির চেষ্টা করলেও, যতক্ষণ পর্যন্ত পাওনা অর্থ আদায় না হবে, ততক্ষণ ব্যাংক খাতের এই সংকট কাটবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট