কুলাউড়ায় এনটিসির চা বাগানে শ্রমিকদের অনশন

প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৫

কুলাউড়ায় এনটিসির চা বাগানে শ্রমিকদের অনশন

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মামলা দিয়ে হয়রানি করার প্রতিবাদে অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন চা-শ্রমিকরা।

সোমবার (২৩ জুন) সকালে উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নে অবস্থিত এনটিসির বিজয়া চা বাগানের শ্রমিকরা অনশন শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অনশনের পর বাগান ব্যবস্থাপক তাপস কুণ্ডুর আশ্বাসে কাজে ফেরেন শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, বিজয়া চা-বাগানের সুখয় লায়েকের ছেলে সজল লায়েক (৩৮) দীর্ঘদিন ধরে বাগানের শ্রমিকদের হয়রানি করে আসছেন।

শুধু তাই নয়, নিজের পরিবারের সদস্যরা তার হয়রানির শিকার। প্রায়ই রাতে মাতাল হয়ে সবাইকে গালিগালাজ করেন। তার এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় শ্রমিকদের নামে আদালতে মামলা দায়ের করেন। সজলের বাবা সুখয় ছেলের অত্যাচারের বিষয়ে বাগান পঞ্চায়েতের কাছে বিচারপ্রার্থী হলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি তার বাবা ও কাকাদের বিরুদ্ধেও আদালতে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।

এ নিয়ে বাগানের লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে সোমবার সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগদান না করে বাগান ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের সামনে অনশনে বসেন। এ সময় শ্রমিকরা উশৃঙ্খল সজলকে বাগান থেকে বিতাড়িত করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে বাগান ব্যবস্থাপক তাপস কুণ্ডু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আইন অনুযায়ী সজলের উপযুক্ত বিচার করা হবে মর্মে আশ্বস্থ করলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর শ্রমিকরা কাজে ফেরেন।

চা-শ্রমিক লিটন লায়েক, নিজন গোয়ালা, চাম্পা লায়েক, আপন লায়েক, গৌরাঙ্গ লায়েক, ফাতেমা বেগমসহ অনেকের অভিযোগ, সজল ও তার স্ত্রীর যন্ত্রণায় তারা অতিষ্ঠ। প্রায়ই তারা মাতাল হয়ে মানুষকে হয়রানি করেন। কেউ প্রতিবাদ করলেই আদালতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। তাকে বাগান থেকে বিতাড়িত করে আইনের আওতায় না নিলে তারা আগামীতে সব রকমের কাজকর্ম বন্ধ রেখে কঠোর আন্দোলনে নামবেন বলে জানান।

অভিযুক্ত সজলের বাবা সুখয় লায়েক বলেন, তার ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে একেবারে বিপদগামী হয়ে গেছেন।

তিনি বাগানে উশৃঙ্খল আচরণ করে মামলা দিয়ে সাধারণ শ্রমিকদেরকে নানাভাবে হয়রানি করছে। ইতিমধ্যে তিনি ছেলেকে অবাধ্য ঘোষণা করে তার শাস্তির জন্য মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সজল লায়েক, তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বাবা ও বাগানের কয়েকজন মিলে তাকে বাগান থেকে বিতাড়িত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। তাই তিনি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দিয়েছেন।

ন্যাশনাল টি কোম্পানির আওতাধীন বিজয়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপক তাপস কুন্ডু জানান, বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট