সিলেটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আলোচনা সভা ও র‌্যালি

প্রকাশিত: ৮:৫৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২৪

সিলেটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আলোচনা সভা ও র‌্যালি

সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ রোকন উদ্দিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগোপযোগী নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে নারীরা ও দক্ষতার অর্জন করে এগিয়ে যাচ্ছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল নারী-পুরুষ সমান অধিকার নিশ্চিত করা। পিতার স্বপ্ন ও আদর্শ লালন করে প্রধানমন্ত্রী নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন। সেই সব সুবিধা গ্রহণ করে নারীরা দক্ষতার সাথে দেশের কল্যাণে ভুমিকা রাখছেন। তিনি আরো বলেন, নারীদের প্রতি দয়া নয়, তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করতে সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করতে হবে।

শুক্রবার (৮ মার্চ) সকালে জেলা পরিষদের হলরুমে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সিলেট জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এর যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোবারক হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্ধীপ কুমার সিংহ, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক সুর্বনা সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোঃ সেলিম, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক এমপি, রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত সৈয়দা জেবুন্নেছা হক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক শাহিনা আক্তার।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসিনা বেগম চৌধুরী, সনাকে’র সভাপতি এডভোকেট শিরিন আক্তার, জাতীয় মহিলা সংস্থা সিলেটের চোয়ারম্যান হেলেন আহমেদ।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণলয়ের এপিসি প্রকল্পের চাইল্ড রাইটস্ ফ্যাসিলিটেটর প্রিয়াংকা দাস রায় এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সিলেট থেকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ১০০ জন নারীদের মধ্যে ৬ হাজার ৪ শত টাকা করে ভাতা ও যুব একাডেমির পক্ষ থেকে ৪ জন নারী উদ্যোক্তাকে ব্যবসায়িক সহায়ক উপকরণ বিতরণ করেন প্রধান অতিথি সহ অতিথিবৃন্দ।



এদিকে একইদিন বিকেলে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র, সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা শাখার আহবায়ক তামান্না আহমেদ এর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলা শাখার আহবায়ক কমরেড উজ্জ্বল রায়,নারীমুক্তি কেন্দ্র সিলেট জেলা শাখার সদস্য নমিতা রায়,রুবাইয়াত আহমেদ,সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক বুশরা সোহাইল প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ আমেরিকার নিউইয়র্কের সুতা কারখানায় নারীশ্রমিকরা উপযুক্ত বেতন,কাজের উন্নত পরিবেশ ও দশ ঘন্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলনে নামে। নারী শ্রমিকদের আন্দোলন দমন করার জন্য পুলিশ মিছিলের ওপর গুলি চালায়।আন্দোলন আরও জোরদার হয় এবং অন্যান্য দাবির সাথে ভোটাধিকারের দাবি ক্রমেই শক্তিশালী রূপ ধারণ করে। ধারাবাহিক আন্দোলন চলতে থাকে, নারী আন্দোলনের চেতনাকে ধরে রাখার জন্য ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত কমিউনিস্টদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়ার প্রস্তাব করেন ক্লারা জেৎকিন।এ প্রস্তাব অনুমোদন লাভ করে। নেতৃবৃন্দ বলেন নারী দিবসের সংগ্রামের ইতিহাস আজ ভূলিয়ে দেয়ার আয়োজন চলছে বিশ্বব্যাপী,বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। যে ৮ মার্চের সূচনা হয়েছিল কারখানায় শ্রমিকের হাত ধরে, যে শ্রমজীবী নারীরা ন্যায়সঙ্গত শ্রমঘন্টার দাবিতে, সমমজুরির দাবিতে, কাজের সুস্থ পরিবেশের দাবিতে লড়াই শুরু করেছিল, আজও নারীরা ঐসব অধিকার পায়নি। দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় বিশ্ব ব্যাংকের ‘নারী,ব্যবসা ও আইন- ২০২৪’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীরা পুরুষের তিন ভাগের এক ভাগ আইনি অধিকার ভোগ করেন।দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পেছনে আছে শুধু আফগানিস্তান, অর্থাৎ নেপাল, ভূটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ভারতের পেছনে বাংলাদেশের অবস্থান। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সর্বত্র নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে অথচ বিচার পাচ্ছে না। মানুষ হিসেবে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবি উঠেছে প্রায় ৩০০ বছর আগে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস অতিক্রম করছে ১১৪ বছর, অথচ আজও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে নারী সমাজকে আন্দোলন করতে হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, নারীসমাজের মুক্তির জন্য চাই সমাজের মৌলিক পরিবর্তন উপযোগী রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক শক্তিশালী আন্দোলন। এ আন্দোলনে নারী পুরুষ নির্বিশেষে বিবেক সম্পন্ন সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।