ছাতকে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ, নিন্দার ঝড়

প্রকাশিত: ৮:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২৬

ছাতকে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ, নিন্দার ঝড়

আনোয়ার হোসেন রনি, সুনামগঞ্জ জেলা


সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার খুরমা দক্ষিণ ইউনিয়নের মানিকগঞ্জ বাজারে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠেছে। অসহায় ওই ব্যক্তির প্রতি এমন আচরণকে অমানবিক উল্লেখ করে অভিযুক্ত যুবককে শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মানিকগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে এক যুবকের মারধরের দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি করছেন ভিডিওটি দেখেছেন এমন ব্যক্তিরা। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, মারধরের পেছনে কোনো বিরোধ ছিল কি না এবং অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অসহায় মানুষের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা কেন? একজন মানুষের মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক না থাকলে তাঁর প্রয়োজন হয় সহানুভূতি, নিরাপত্তা ও সহযোগিতা। কিন্তু সেই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাঁকে মারধর করার অভিযোগ সমাজের মানবিক মূল্যবোধকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

ভিডিওটি শুক্রবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি নিজের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় বেশি অসহায় হতে পারেন। তাঁর আচরণে কেউ বিরক্ত বা বিব্রত হলেও তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অধিকার কারও নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানো ব্যক্তিদের মতে, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদেরও সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। তাঁরা সমাজের বোঝা নন; বরং সমাজেরই অংশ। তাঁদের প্রতি অবহেলা, উপহাস কিংবা নির্যাতন নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণ।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ভিডিওটি যথাযথভাবে যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

একই সঙ্গে মারধরের শিকার ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি উঠেছে। তিনি আহত হয়ে থাকলে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ভিত্তিতে কাউকে চূড়ান্তভাবে অপরাধী হিসেবে ঘোষণা না করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন অনেকে।

এ ঘটনায় ছাতক-দোয়ারাবাজার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মুরছানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি ছুটিতে রয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ছাতক থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “খোঁজখবর নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তাঁর এ বক্তব্যের পর ঘটনার বিষয়ে পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর রাখছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।

তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত যুবকের পরিচয়, গ্রেপ্তার কিংবা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহি উদ্দিনের সরকারি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। এ সময় ফোনে রিং হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

মানিকগঞ্জ বাজারের এ ঘটনা কেবল একজন ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ নয়; এটি অসহায় মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বিষয়টিও সামনে এনেছে। মানসিক ভারসাম্যহীন কেউ রাস্তায় বা বাজারে অস্বাভাবিক আচরণ করলে তাঁকে মারধর না করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া, পরিবারের সন্ধান করা কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তার ব্যবস্থা করাই হওয়া উচিত দায়িত্বশীল আচরণ।

একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিবাদ জানানোই যথেষ্ট নয়। ঘটনার সত্যতা যাচাই, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করাও জরুরি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখবে, মারধরের শিকার ব্যক্তির খোঁজ নেবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অসহায় মানুষের কান্না যেন উপেক্ষিত না হয়! মানবিকতার জায়গাটি যেন হারিয়ে না যায়—এটাই এখন মানিকগঞ্জ বাজারের এ ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট