|
প্রকাশিত: ৪:০৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২৬
সিলেটে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে এবার অভিযানে নেমেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালানো হয়।
চারজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ অভিযানে ট্রেনের টিকিট নিয়ে অনিয়ম ও অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযান শেষে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আগামী ১২ অক্টোবর (সোমবার) থেকে টিকিটের নাম ও যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নামের মিল না থাকলে যাত্রীকে যেতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি সিলেট থেকে ঢাকা বা অন্য কোথাও যেতে চান তাহলে অবশ্যই তার টিকিটের সাথে এনআইডি কার্ডের নাম মিলতে হবে।
তিনি বলেন, আজকে আমরা দেখেছি কিছু কিছু যাত্রীর টিকিটের সাথে এনআইডির নাম মিলছে না। আমরা ৩/৪ দিন সময় দিচ্ছি। ১২ অক্টোবর) থেকে কঠোর অপারেশন শুরু হবে। আমি চেক করবো। রেল স্টেশনে রেগুলার ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে।
এরআগে অভিযানে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীর মূল নামের সাথে অনলাইনে কাটা টিকিটের নামের কোনো মিল নেই।
ট্রেন ভ্রমণকে কালোবাজারি মুক্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য সহজ করতে এই অভিযান ও কঠোর তদারকি নিয়মিত চলবে বলে আশ্বস্ত করেছে জেলা প্রশাসন।
এরআগে গত বছরের অক্টোবরে সিলেট জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতিবিদ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে নিজ নামে টিকিট ছাড়া ট্রেন ভ্রমণ করা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো।
এরপর তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগে টিকিট কালোবাজারি রোধে প্রশাসনের নজরদারি শুরু করে। তবে কিছুদিন পর থেমে যায় সেই তৎপরতা। ফের ট্রেনের টিকিট নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠতে শুরু করে।
সিলেট রেল স্টেশনে টিকি কালোবাজারির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে ঢাকা-সিলেট সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। এতে বেড়েছে কালোবাজারিও। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার ৩/৪ মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। যার বড় অংশই কালোবাজারিরা কিনে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ট্রেনের টিকিট নিয়ে নানা অভিযোগ ও যাত্রীদের ভোগান্তির মধ্যে সম্প্রতি এ ব্যাপারে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান।
সিলেটে ট্রেনের টিকিট সংকটের পেছনে কালোবাজারি ও মজুদদারির সুনির্দিষ্ট আলামত পেয়ে মামলা দায়েরের পর সেটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)-কে। এই মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার রাতে রেল স্টেশনে অভিযানে যান জেলা প্রশাসক।
এরআগে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) ম্যাজিস্ট্রেটের মামলার নথিপত্র পিবিআইয়ের কাছে পৌঁছেছে। মামলাটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক আবদুল আহাদ। তিনি জানিয়েছেন, আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে দায়ের করা মামলাটি তিনি তদন্ত করছেন।
জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকায় উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা, পারাবত এবং চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। এসব রুটের টিকিট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে সব বিক্রি হয়ে যায়। যেটি নজরে আসে আদালতের।
পরবর্তীতে আদালত পর্যবেক্ষণ করে অনলাইনে কয়েক মিনিটের মধ্যে ট্রেনের সব টিকিট বিক্রির বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে। এরই প্রেক্ষিতে সেপ্টেম্বরের শেষদিকে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি এজাহারে কালোবাজারি ও মজুদদারির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেনের টিকিট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাত্রীদের অসন্তোষ প্রকাশ পেয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, অনলাইনে টিকিট বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট সময় টিকিট উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। ফলে সাধারণ যাত্রীরা টিকিট না পেলেও পরে অধিক মূল্যে বিভিন্ন মাধ্যমে টিকিট বিক্রির অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি নজরে আসার পর ট্রেনের টিকিট বিক্রির সরকারি ওয়েবসাইট পরিদর্শন করেন আদালত। সেখানে নির্দিষ্ট দিনের টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। বিপুলসংখ্যক টিকিট এত অল্প সময়ে বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সন্দেহ তৈরি হয় আদালতের।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, একটি চক্র ট্রেনের টিকিট বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কারও কারও সহযোগিতায় মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের টিকিট সরিয়ে নিয়ে পরে তা অধিক মূল্যে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে থাকতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাধারণ যাত্রীদের হয়রানির পাশাপাশি সিলেটের পর্যটনশিল্পের বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কালোবাজারি ও মজুদদারির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে- এমন সন্দেহের ভিত্তিতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লা আল নোমান স্ব-উদ্যোগে মিস মামলা নং-০১/২০২৬ দায়ের করেন।
বিষয়টি নিয়ে সিলেট রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম জানান, রেলের টিকিট অনলাইনে ক্রয় করতে হয়। কেউ কেউ সরাসরি কাউন্টার থেকেও ক্রয় করেন। টিকিট বিক্রিতে আমাদের কোনো হাত নেই।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D