ঈদ বোনাস ও বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ

প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২৬

ঈদ বোনাস ও বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ

দেশের মুসলমান সম্প্রদায় যখন ঈদের আনন্দ-উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ দেশের ব্যক্তিমালিকানাধীন স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় সকল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি, আইনানুগ উৎসব বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ২২ মে বিকেল ৫টায় সুরমা পয়েন্টে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিটি পয়েন্টে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ’র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়ার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ শাহপরান থানা কমিটির সভাপতি খোকন আহমদ, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা কমিটির আহবায়ক শুভ আজাদ (শান্ত), সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুনু মিয়া সাগর, সিলেট সদর উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘের সহ-সভাপতি লুৎফুর রহমান, সিলেট জেলা প্রেস শ্রমিক ইউনিয়নের অন্যতম নেতা শাহীন আহমদ, মো. সোহেল রানা।

বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে মালিকশ্রেণি বছরের পর বছর বিপুল মুনাফা অর্জন করছে। ঈদকে কেন্দ্র করে মালিকরা যখন জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করে, তখন সেই প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদেরই ন্যায্য বেতন-বোনাসের দাবিতে রাস্তায় নামতে হয়। বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ (অদ্যাবধি সংশোধিত)-এর ধারা ২ (২ক) এবং-এর বিধি ১১১ (৫) অনুযায়ী শ্রমিকদের উৎসব বোনাস প্রদান বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে প্রতিবছর ঈদ এলেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস আদায়ের জন্য আন্দোলন, মিছিল, মানববন্ধন ও মালিকদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিতে হয়। যে শ্রমিক সারা বছর মালিকের প্রতিষ্ঠানে শ্রম দিয়ে মুনাফা সৃষ্টি করে, ঈদের সময় সেই শ্রমিকের ঘরেই অভাব-অনটন বিরাজ করে।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের জীবন চরম সংকটে পড়েছে। চাল, ডাল, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বাসাভাড়া ও পরিবহন ব্যয়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও শ্রমিকদের মজুরি সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস অবস্থা। অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটানো অসংখ্য শ্রমিক পরিবারের পক্ষে ঈদের ন্যূনতম আনন্দটুকুও নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শ্রমিকরা যখন ন্যায্য মজুরি ও বোনাসের দাবিতে আন্দোলনে নামে, তখন মালিকশ্রেণির স্বার্থরক্ষায় প্রশাসন, শিল্প পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়। অথচ শ্রমিকদের শ্রম ছাড়া শিল্প-কারখানা, হোটেল রেস্টুরেন্ট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একদিনও চলতে পারে না। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। একইসাথে বক্তারা শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা আহবায়ক শুভ আজাদ শান্ত তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ, হত্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একের পর এক ধর্ষণ, গণধর্ষণ, নির্যাতন, নারী ও শিশু হত্যার ঘটনা প্রমাণ করছে এ ধরনের অপরাধ অনেক ক্ষেত্রেই কার্যত অপ্রতিরোধ্য অবস্থায় পৌঁছে গেছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর তথ্যমতে গত ১৬ মাসে দেশে অন্তত ৫৮০ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে ৪৮৩ জনকে। একই সময়ে আরও অন্তত ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, অধিকাংশ ঘটনায় বিচারহীনতা, দীর্ঘসূত্রতা ও প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়া অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে অপরাধীদের প্রতি রাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান দৃশ্যমান না হলে এ ধরনের অপরাধ কমানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন।