জগন্নাথপুরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি, রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

প্রকাশিত: ১০:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২৫

জগন্নাথপুরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি, রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার গাদালিয়া গ্রামে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে এক রাজমিস্ত্রির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তি কার গুলিতে মারা গেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার (২২ জুন) রাতে উপজেলার হাওরবেষ্টিত গাদালিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু সাঈদ (৩১) দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের তাজ মিয়ার ছেলে এবং পেশায় রাজমিস্ত্রি। ঘটনার সময় তিনি গাদালিয়া গ্রামে একটি নতুন বাড়িতে নির্মাণকাজে নিয়োজিত ছিলেন।

দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ – স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান একরার হোসেন এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিকুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দ্বন্দ্বের জেরে সম্প্রতি এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। গত শুক্রবার উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হন। এর আগে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া এবং গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের একটি টহল দল রোববার বিকেলে দিরাই উপজেলার হাতিয়া গ্রামে অভিযান চালায়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা নৌপথে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার গাদালিয়া গ্রামে আশ্রয় নেয়। সেখানে সেনাবাহিনী ঘেরাও করে অভিযান শুরু করলে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়ে। সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের পরিবার জানায়, তিনি রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত ছিলেন না।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভুঞা বলেন, ‘এটি হাওরের দুর্গম এলাকা। সেখানে পৌঁছাতে নৌকায় দুই-আড়াই ঘণ্টা লাগে। নিহত ব্যক্তি খুবই নিরীহ বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। তবে কার গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন, সেটি তদন্ত সাপেক্ষ।

সেনাবাহিনীর এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্রধারীদের ধরতে সেনাবাহিনীর অভিযান চালানো হয়। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা প্রথমে সেনাবাহিনীর ওপর গুলি চালায়। আত্মরক্ষায় সেনাবাহিনীও গুলি করে। পরে একজনের মরদেহ পাওয়া যায়, তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট