সিলেটের ধোপাগুল ও জৈন্তাপুরে ৩৫টি ক্রাশার মেশিনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

প্রকাশিত: ৫:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২৫

সিলেটের ধোপাগুল ও জৈন্তাপুরে ৩৫টি ক্রাশার মেশিনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

সিলেটে জ্বালানী উপদেষ্টার নির্দেশনার একদিন পরই পৃথক অভিযানে অবৈধভাবে পরিচালিত ৩৫টি পাথর ভাঙার ক্রাশার মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ জুন) সিলেট সদর উপজেলার ধোপাগুল এবং জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে ধোপাগুল এলাকায় ৩০টি ও জৈন্তাপুর উপজেলার ৫টি ক্রাশার ও বালু ধৌতকরণ মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ২৬টি বৈদ্যুতিক মিটার এবং যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়। তাছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় এক ট্রাক চালককে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার ধোপাগুল এলাকায় দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিলেট জেলার সিনিয়র সহকারী কমিশনার মেরিনা দেবনাথ।

তিনি বলেন, ‘অভিযানে যৌথবাহিনীর উপস্থিতিতে ৩০টি পাথর ক্রাশার মেশিনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে আরও ২৬টি বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করা হয়েছে।’

এদিকে সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে পাঁচটি অবৈধ স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে লক্ষ্মীপুর ১ম খণ্ড এলাকার একটি বাইব্রেটর মেশিন, আসামপাড়ার আম্মাজান স্টোন ক্রাশার, মুনতাহা স্টোন ক্রাশার এবং ৪নং বাংলাবাজার এলাকার জালালী স্টোন ক্রাশারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

অভিযানে এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয় এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় এক ট্রাকচালককে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে সহায়তা করেন পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী সজল চাকলাদার, জৈন্তাপুর উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিনিধিরা।

জৈন্তাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার লাবনী বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা ও পরিবেশবিনাশী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমাদের এ অভিযান চলমান থাকবে। আইন অমান্যকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না।’

এর আগে গত শনিবার (১৪ জুন) সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং পর্যটনকেন্দ্র এলাকা পরিদর্শনে যান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।

পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয় মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি- সিলেটে নান্দনিক আবেদন আছে, নৈসর্গিক আবেদন আছে এইরকম জায়গাগুলোকে আমরা আর পাথর তোলার জন্য ইজারা দেব না।’

জ্বালানি উপদেষ্টাকে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন হয়। সেটা বন্ধের জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এখানে আছেন। তিনি নিশ্চয়ই বলবেন’।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট