বাঙালির ইতিহাসের কালরাত আজ

প্রকাশিত: ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২২

বাঙালির ইতিহাসের কালরাত আজ

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ। বাঙালির ইতিহাসের কালরাত। পুরো মানব সভ্যতার ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায় রচিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে। এই দিন রাতে পাকিস্তানের বর্বর হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ঝাঁপিয়ে পড়েছিল হিংস্র দানবের মতো, চালিয়েছিল গণহত্যাযজ্ঞ। জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে দিনটি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৭০ এর নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা। বৈঠকের মাধ্যমে কালক্ষেপণ করে লিপ্ত হয় ষড়যন্ত্রে। নিরস্ত্র বাঙালি নিধনের নীল ছক কষে তারা।

এরই মধ্যে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে দীর্ঘ ২৩ বছরের শাসন-শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেন। ১৫ মার্চ থেকে ৩৫ দফা নির্দেশনা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সারা বাংলায় অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয় বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ। পূর্ব বাংলায় বেসামরিক শাসন ব্যবস্থা পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়লে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে বারবার সমঝোতার প্রস্তাব দিতে থাকে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু এ দেশের স্বাধীনতার পক্ষে অটল থাকলে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে চালায় বিশ্ব ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা। বাঙালির একটি প্রজন্মকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এক নরকীয় পরিকল্পনা ছিল এটি।

অসহযোগ আন্দোলনের ২৪তম দিন ছিল ২৫ মার্চ। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সেদিন সন্ধ্যায় গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। মধ্য রাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা সাঁজোয়া ট্যাংক নিয়ে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ এর নামে ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালির ওপরে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা এবং রাজারবাগে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষক, বাঙালি পুলিশ ও সামরিক সদস্যদের হত্যা করতে থাকে।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পোড়া মাটি নীতি বাস্তবায়নে জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না।’ তার এই চাওয়াই বাঙালির জাতীয় জীবন কালরাত হয়ে নেমে আসে। এক ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুরতার স্মৃতি হিসেবে চিহ্নিত এই রাত। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর হিংস্র দানবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

এর পরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয়। এর অব্যবহিত পূর্বেই জাতির পিতা স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা বার্তা লিখে যান—‘ইহাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও। ’ যা প্রথমে ইপিআরের ওয়্যারলেস মাধ্যমে প্রচারিত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে এই বার্তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার সর্বস্তরের জনগণ। ২৫ মার্চ কালরাতে শুরু হওয়া পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা চলতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় ধরে। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত মহান স্বাধীনতা। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট