কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৬

Manual5 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হেয় করার জন্য কষ্টের মধ্যেও আমাদের আঘাত করতে তিনি (খালেদা জিয়া) সেজে-গুজে ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিনের উৎসব করতেন। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বোঝাতেন, তিনি তাদের সঙ্গে আছেন।’

মঙ্গলবার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জার্মানি থেকে দিল্লি­ পৌঁছলাম ২৪ আগস্ট। ইন্দিরা গান্ধী বারবার খবর পাঠাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে দেখা হলো ৪ সেপ্টেম্বর। তার মুখ থেকে শুনলাম কেউ বেঁচে নেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক উদারতা নয়, ১৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন না করার পেছনে ভিন্ন কারণ রয়েছে। ১২ আগস্ট তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন। কোকো মারা যাওয়ায় যেহেতু তার জন্মদিন পালন করতে পারবেন না, সে কারণেই এবারের ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করেননি বিএনপি নেত্রী।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পরবর্তী সময়ে জিয়া ভারত ও যুক্তরাজ্যে বারবার আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন। খুনি বলে তার সঙ্গে দেখা করিনি। কারণ একজন খুনির চেহারা আমি দেখতে চাইনি।’

‘১৯৮০ সালের ১৭ মে দেশে আসার পর আমাকে ৩২ নম্বরের বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি,রাস্তায় বসে মিলাদ পড়েছিলাম।  যতদিন জিয়া রাষ্ট্রপতি ছিলেন, আমাকে ওই বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি।  বিনিময়ে আমাকে বাড়ি-গাড়িসহ অনেক কিছু দিতে চেয়েছে, আমি নেইনি।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আকাঙ্খা অনুযায়ী দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও দেশকে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করেছি। বিচারের রায়ও কার্যকর করেছি। এখন একটাই কাজ, জাতির পিতার আকাঙ্খা অনুযায়ী দেশকে তার স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ ও সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবোই।

Manual6 Ad Code

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি আরো বলেন, বিএনপি নেত্রীর পাসপোর্টে ১৫ আগস্ট তার জন্মদিন নয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তার যে জীবনবৃত্তান্ত ছাপানো হয়েছিল, সেখানেও জন্মদিন ছিল অন্য তারিখে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ আগস্ট তার ছেলে কোকোর জন্মদিন ছিল। ছেলে মারা গেছে, মা হয়ে ছেলের জন্মদিন পালন করতে পারেননি, তাই নিজেরটাও পালন করেননি। মা হয়ে তিনি এছাড়া আর কী-ই বা করতে পারতেন। আর তার দলের নেতাদের অনেকেই এটিকে তার রাজনৈতিক উদারতা হিসেবে দেখাতে চাইছেন। এখানে কোনো রাজনৈতিক উদারতা নেই। বাস্তবতা ভিন্ন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের প্রায় পুরোটা জুড়েই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং তার দীর্ঘ ছয় বছরের প্রবাস জীবনে অপরিসীম দুঃখ-কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার ও ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর দেশ ও জাতির কল্যাণে তার আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন।

Manual6 Ad Code

এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে দফায় দফায় অশ্রুসজল হয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধু কন্যা। তার এই বক্তব্য চলাকালে অনুষ্ঠানস্থলে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নেতা-কর্মী ও আমন্ত্রিত দর্শক-শ্রোতাদের অনেককেও চোখ মুছতে দেখা গেছে।

Manual6 Ad Code

শেখ হাসিনা বলেন, যারা এদেশের স্বাধীনতা চায়নি, বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের বিজয় চায়নি, মুক্তিযুদ্ধের  বিরোধিতা করেছিল তারাই ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

৭৫’র এর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি হারিয়েছি বাবা-মা, ভাই আত্মীয় পরিজনকে। বাঙালি হারিয়েছে মহান নেতাকে, জাতির ভবিষ্যতকে। ঘাতকের নির্মম বুলেট কত তাজা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। যার নেতৃত্বে স্বাধীনতা পেয়েছি তাকেই ঘাতকের বুলেট কেড়ে নিয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রমুখ।

Manual3 Ad Code

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code