১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২৬
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজ আমি আপনাদের হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই হঠাৎ তিনদিন হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনাতে না থাকার অশ্রুশিক্ত ঘটনাটি নিয়ে সেই সম্পর্কে নিম্নে সংকিপ্ত আকারে আলোচনা তুলে ধরছি, ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ
একটি ঘটনা পরলে চোখের পানি চলে আসবে পড়তে পড়তে কখন কেঁদে ফেলেছি নিজেও জানিনা- তিনদিন হলো হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনাতে নেই।কেউ জানেনা নবীজি কোথায়। ওমর ফারুক (রাঃ) মুক্ত তরবারি হাতে ঘোষণা দিলেন, “যদি নবীজির কোন কিছু হয় তবে আমি ওমর বলছি মক্কার একটা মুনাফিকও আস্ত শরীরে থাকবে না।“ এদিকে আবু বকর (রাঃ)বললেন,থাম ভাই চল নবীজির তালাস করি। দুই জনে মদিনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। মরুভূমি পেরিয়ে পাহাড়ের এলাকাতে আসলেন। একটু দূরে দেখলেন এক রাখাল দাড়িয়ে আছে। আবু বকর (রাঃ) ও ওমর ফারুক (রাঃ) রাখালকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি মুহাম্মদ (সা.) কে দেখেছ? রাখাল উত্তরে বলল আমি মুহাম্মদ (সা.) কে চিনি না এবং আপনাদেরও চিনি না। তবে ঐ পাহাড়ের উপরে একজন লোক ইয়া উম্মাতি, ইয়া উম্মাতি বলে কাঁদছেন। আবু বকর (রাঃ) ও ওমর ফারুক (রাঃ) বুঝতে বাকি ছিলনা ঐ লোক আর কেউ না দয়াল নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.)। রাখাল আবার বলল লোকটির সাথে সাথে আমার সব উঠ, ভেড়াগুলোও কাঁদতেছে আর খাওয়া বন্ধ করে দিছে। আপনারা উনাকে নিয়ে যান তা না হলে আমার সব উঠ, ভেড়াগুলো কাঁদতে কাঁদতে মরে যাবে।আবু বকর (রাঃ) ও ওমর ফারুক (রাঃ) পাহাড়ে গিয়ে দেখলেন দয়াল নবীজি সেজদা-রত অবস্থায় ইয়া উম্মাতি, ইয়া উম্মাতি বলে কাঁদছেন। নবীজির কষ্টে আবু বকর (রাঃ) বললেন ইয়া রসুলুল্লাহ আমি আবু বকর ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে যত আমল করেছি সব আপনার উম্মাতকে দিয়ে দিলাম, আপনি দয়া করে মাথা উঠান। নবীজি মাথা উঠায় না। এবার ওমর ফারুক (রাঃ) বললেন ইয়া রসুলুল্লাহ আমি ওমর যে আপনার মাথা নিতে গিয়ে নিজের মাথা দিয়ে দিয়েছি সে আপনার উম্মাতের জন্য সব আমল দিয়ে দিলাম। নবীজি মাথা উঠায় না। আবু বকর (রাঃ) বললেন ওমর কাজ হবে না রসুলুল্লাহকে একমাত্র ফাতিমা শান্ত করতে পারবে। তারা দুই জনে মদিনা দিকে ছুটছেন, পথে হযরত আলী (রাঃ) এর সাথে দেখা। আবু বকর ও ওমর (রাঃ) বললেন সামনে গিয়ে লাভ নেই, রসুলুল্লাহকে শান্ত করতে ফাতিমাকে লাগবে। এবার তিন জনে ফাতিমার বাড়ির সামনে আসলেন আলী (রাঃ) ফাতিমাকে ডাক দিলেন, ফাতিমা বাইরে আসে স্বামীর চেহারা দেখে বললেন, আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেন,তবে কি মক্কার মুনাফিকরা আমার আব্বাজানকে মেরে ফেলছে? আলী (রাঃ) বললেন তুমি তাড়াতাড়ি চলো নবীজি ইয়া উম্মাতি, ইয়া উম্মাতি বলে কাঁদছেন, মাথা উঠাচ্ছেন না। ফাতিমা দৌরে গেলেন। নবীজির কাছে গিয়ে বলছেন আব্বাজান আপনি সফরে যাবার আগে এবং সফর থেকে ফিরে প্রথমে আমাকে দেখতেন, আমার সাথে কথা বলতেন। কিন্তু আজ তিন দিন হল আপনার কোন খোঁজ নেই, আপনি কি আমাকে ভুলে গেছেন? নবীজি তাও মাথা উঠায় না। ফাতিমা (রাঃ) বললেন আব্বাজান আমি আপনার ফাতিমার সব নেকী আপনার উম্মাতকে দিয়ে দিলাম। নবীজি মাথা উঠায় না। নবীজির দুই পাশে হাসান, হুছাইন দাড়িয়ে বলতেছেন নানাজান উঠেন, নানাজান উঠেন। নবীজি মাথা উঠায়না। হঠাৎ ফাতিমা (রাঃ) বলে উঠলেন “আব্বাজান আপনি উঠেন আমি আপনার উম্মাতির জন্য আমি হাসান, হুছাইনকে কুরবানি করে দিলাম।“ আল্লাহ্ আকবার, আল্লাহ্ আকবার, আল্লাহ্ আকবার। এবার নবীজি মাথা উঠালেন আর বললেন ফাতিমা তুমি কি দোয়া করলা আমার আল্লাহ্ তোমার দোয়া কবুল করে ফেলছেন। নবী-রসূল, সাহাবিদের রক্ত ঝরানোর কারনেই সেই দ্বীন আজ আপনার, আমার কাছে আসতে পেরেছে। আসুন আল্লাহর হুকুমগুলো নবীর তরীকায় পালন করার চেষ্টা করি আল্লাহুম্মা আমিন।
লেখক : জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: সিলেটস্থ দুধরচক ঐক্য সংগঠন সিলেট।
ভাইস প্রেসিডেন্ট: জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সিলেট বিভাগ।
ভাইস প্রেসিডেন্ট: কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটার্স ওয়ার্ল্ড সিলেট বিভাগ।
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় দৈনিক বিকাল বার্তা ঢাকা। স্পেশাল রিপোর্টার: দৈনিক বিজয়ের কন্ঠ সিলেট। সাধারন সম্পাদক: ২৪ নং ওয়ার্ড বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ সিলেট মহানগর।
সাবেক: ইমাম ও খতীব কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট।
সাবেক প্রধান শিক্ষক: তৈয়ব কামাল হযরত শাহজালাল (রহ.) লতিফিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা সিলেট।
সাবেক : প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হযরত শাহ্জালাল (রহ.) ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট।উপদেষ্টা : হাবিবিয়া ওয়েলফেয়ার অরগানাইজেশান জকিগঞ্জ সিলেট।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D