উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে উত্তাল সিকৃবি, ৯ম দিনে অবস্থান কর্মসূচি

প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে উত্তাল সিকৃবি, ৯ম দিনে অবস্থান কর্মসূচি

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে টানা নবম দিনের মতো আন্দোলন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হন। পরে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা উপাচার্যের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ভবনটি তালাবদ্ধ থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ ছিল। উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সিকৃবি সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ছিল আন্দোলনের নবম কার্যদিবস। ধাপে ধাপে কর্মসূচির মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।

অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘গতকাল সোমবার থেকে প্রশাসনিক ভবন লকডাউন করা হয়েছে। আজও একই কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও টার্ম পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ, নির্মাণকাজ ও মালামাল কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্মাণকাজ ও মালামাল কেনাকাটায় আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপাচার্যের দুর্ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি।

অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, টানা নয় দিন ধরে আন্দোলন চললেও প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত উপাচার্যকে অপসারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।

আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের তালা খোলা হবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে সাদা দল–সমর্থিত শিক্ষক, ছাত্রদল, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আন্দোলন করে আসছেন।

তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, একটি পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে এসব অভিযোগ তুলছে। নিয়োগে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি বলেও দাবি করেন।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট