কানাডীয় বাংলাদেশি হিসেবে নতুন প্রজন্মকে মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে হবে : পাশা খন্দকার

প্রকাশিত: ১০:৩৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

কানাডীয় বাংলাদেশি হিসেবে নতুন প্রজন্মকে মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে হবে : পাশা খন্দকার

কানাডায় মূলধারার রাজনীতি, নীতি-নির্ধারণী পর্যায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কাঠামোর সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের বলিষ্ঠ অবস্থান তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, মূলধারার রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ক্যাটারিং অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএ) সাবেক সভাপতি পাশা খন্দকার এমবিই।

তিনি বলেছেন, “আমদেরকে শেকড় বা রুট আঁকড়ে ধরে ‘কানাডীয় বাংলাদেশি’ হিসেবে নিজেদের আত্মপ্রকাশ ঘটাতে হবে। প্রবাসে আমাদের নতুন প্রজন্মকে যোগ্য করে তুলতে হবে, যেন তারা মূলধারার সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করতে পারে।

কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রদত্ত গণ-সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাশা খন্দকার এসব কথা বলেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে টরন্টোর একটি রেস্টুরেন্টে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, কানাডা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা ও প্রবীন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ইঞ্জিনিয়ার রেজাউর রহমান।

জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মাহবুব চৌধুরী রনির পরিচালনায় এবং কানাডা পশ্চিম বিএনপির সভাপতি আহাদ খন্দকারের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত করেন টরন্টো সিটি বিএনপির সভাপতি মঈন চৌধুরী।

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অবস্থান তুলে ধরে পাশা খন্দকার বলেন, “ব্রিটেনে কঠোর পরিশ্রমের পরও এখনও আমাদের মাত্র ৪ জন এমপি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। অথচ সেখানে ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এমপিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য এবং তারা ব্রিটিশ রাজনীতির মূলধারায় শীর্ষ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শুধু যুক্তরাজ্যেই নয়, কানাডার পার্লামেন্টেও তাদের শক্ত প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব লক্ষ্য করা যায়।

আমরা দেরিতে হলেও অনুধাবন করতে পেরেছি যে, পিছিয়ে থাকার দিন শেষ। আমাদের যোগ্য হতে হবে এবং এসব দেশের ক্ষমতার মূল কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”

নতুন প্রজন্মকে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তারা কানাডার রাজনীতি, প্রশাসন ও অর্থনীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ সকল স্থানে অধিষ্ঠিত হয়ে একত্রিতভাবে বাংলাদেশের স্বার্থে কাজ করবে। তবে অর্জনের এই যাত্রায় নিজেদের সংস্কৃতি ও পরিচয় ভোলা যাবে না। আমাদের রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস ও গৌরবের ঐতিহ্য। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশ অর্জন করেছি। সন্তানদের কাছে এই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরতে হবে এবং খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই লক্ষ্যগুলো অর্জন (অ্যাচিভ) করতে হবে।”

বক্তব্যে তিনি ব্রিটেনে প্রবাসীদের হাতে গড়া বহু বিলিয়ন পাউন্ডের ‘ব্রিটিশ কারি শিল্প’-এর স্ট্রাগল ও সাফল্যের দীর্ঘ ইতিহাস স্মরণ করেন, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশিদের অর্থনৈতিক ভিত্তির বড় উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্ব প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এমবিই পদকপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিত্ব। তিনি বলেন, “তিনি (তারেক রহমান) অত্যন্ত সুন্দর ও নির্মল মনের একজন মানুষ, যার মধ্যে বিন্দুমাত্র খাদ নেই। তিনি দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন—এমন স্বপ্ন যা তাকে ঘুমাতে দেয় না, বরং দিনরাত দেশের জন্য কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। তার নীতি স্পষ্ট; তিনি নিজে কখনো দুর্নীতি করবেন না এবং এক পয়সার দুর্নীতিও তার দ্বারা সমর্থিত হবে না। দেশের উন্নয়ন ও মানুষের সেবার মধ্যেই তিনি পরম আনন্দ খুঁজে পান।

প্রবাসীদের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনরুল্লেখ করে তিনি জানান, সিলেটের সন্তান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী প্রবাসীদের প্রতিটি সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট। তিনি প্রবাসীদের কল্যাণমন্ত্রী, অকল্যাণ নয়। তিনি প্রবাসীদের যে কোনো সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে চেষ্ঠা করেন।

পাশা খন্দকার বলেন, এরপরও প্রবাসীদের যেকোনো জটিলতা বা সমস্যা হলেআমরাতো আছি। সমগ্র সিলেটের উন্নয়নে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নিরলস প্রচেষ্ঠার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যে কোনো সমস্যায় বিএনপির সভাপতি আহাদ খন্দকারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। তিনি প্রয়োজনে আমার কিংবা বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানের চেষ্ঠা করবেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, কানাডা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবুর রব চৌধুরী, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ছাদ চৌধুরী, মিজানুর রহমান চৌধুরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তপন মাহমুদ, সাবেক চেয়ারম্যান মিসবহুল কাদির ফাহিম, ওন্টারিও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইমন চৌধুরী, বেলায়েত হোসেন রিপন, ইঞ্জিনিয়ার আবু জহির সাকিব, সিপিএ যুবায়ের আহমেদ, জাকির হোসেন, মো. হাবিবুর রহমান সালাম, নাজমা রহমান, প্রবাসী টিভির সিইও আরিফ হোসেন, সাংবাদিক শাহজাহান সেলিম বুলবুল, মকবুল হোসেন, ইউসুফ তালুকদার, লায়েকুল হক চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী রেজা, নাহিদ আহমদ, সোহেলুজ্জামান সুহেল, মাসরুর হোসেন রিপন, মো. গিয়াস উদ্দিন, সৈয়দ মাহবুব হোসেনসহ প্রবাসী বাংলাদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সংবর্ধিত অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়।প্রেস বিজ্ঞপ্তি


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট