চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা বৃহস্পতিবার

প্রকাশিত: ২:৪৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ১, ২০১৭

চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা বৃহস্পতিবার

আগামী অর্থবছরের বাজেটের সব প্রস্তুতি এখন শেষ। শেষ মুহূর্তে বক্তৃতার কপিতে চোখ বুলিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মঙ্গলবার রাতেই বাজেটের কপি বই আকারে ছাপার জন্য সরকারি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের আকার প্রস্তাব করা হচ্ছে চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি।

১ জুন বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মূলত জাতীয় নির্বাচন সমানে রেখে বড় বাজেট দিতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। এ বাজেট হবে বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে চতুর্থ বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ১১তম বাজেট। এরশাদের আমলে দুটি বাজেট দিয়েছিলেন মুহিত। এবারের বাজেটের সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা। ২০১২ সালে তৈরি করা এ আইন বাস্তবায়ন হবে ১ জুলাই থেকে।

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রতিবারের মতো এবারও শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাত অগ্রাধিকার পাবে। তবে গণপরিবহন ও বিদ্যুতে বেশি বরাদ্দ থাকবে। গত সপ্তাহে সচিবলায়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

নতুন বাজেটে এনবিআর, নন-এনবিআর মিলে মোট রাজস্ব প্রাপ্তি প্রাক্কলন করা হচ্ছে প্রায় দুই লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে আসবে দুই লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে আগামী বাজেটে বেশি ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ জন্য বিশাল এ বাজেটে ঘাটতি ৫ শতাংশের কিছু বেশি রাখা হচ্ছে, যা টাকার অঙ্কে এক লাখ ১২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে মূল বাজেটের আকার ছিল তিন লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয় তিন লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। নতুন এডিপি এক লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে নিজস্ব উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে ৯৬ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। বৈদেশিক সহায়তা বাবদ আসবে ৫৭ হাজার কোটি টাকা।

বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে আগামী বাজেটে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি আলাদাভাবে দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে। একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে মেগা তথা সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বড় প্রকল্পে বরাদ্দ অব্যাহত থাকছে। এ ছাড়া বিভিন্ন খাতে দেওয়া ভর্তুকি ও রফতানিকে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

এদিকে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবার বিড়িতে বেশি কর বৃদ্ধি করা হবে। বিড়িকে নিরুৎসাহিত করতে এ শিল্পে নতুন করে বিনিয়োগ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানান তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ বিড়ি শিল্প মালিক সমিতি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ পরামর্শ দেন অর্থমন্ত্রী। মুহিত বলেন, বিড়ির সময় শেষ। এটা অনেক ক্ষতিকর। এটা রাখা যাবে না। তবে আপনাদের যা বিনিয়োগ রয়েছে, সেটা শেষ হওয়ার জন্য তিন বছর সময় দেওয়া যাবে। এর পর নতুন করে আর বিনিয়োগ করবেন না।