৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০১৭
সিলেটের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট কূটনীতিক ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক আহমদ চৌধুরী আর নেই। আজ বুধবার ভোররাত সাড়ে ৪টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ বাদ আসর ধানমন্ডি ৭ নম্বর রোডের বাইতুল আমান জামে মসজিদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে মরহুমের মরদেহ নেয়া হবে তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। মরহুমের সহকর্মীরা তাকে শ্রদ্ধা জানাবেন। সেখানে তার আরেকটি জানাজা হওয়ারও কথা রয়েছে।
গত ১০ মে গুরুতর অসুস্থ হলে ফারুক আহমেদকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোর সাড়ে চারটার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।
দেশ স্বাধীনের প্রাক্কালে সিলেট থেকে উদ্ভাসিত যে কয়েকজন মানুষ স্বদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজ কর্মদক্ষতায় পরিচিতি অর্জন করেছিলেন তাদের মধ্যে ফারুক আহমদ চৌধুরী ছিলেন অন্যতম।
ফারুক চৌধুরীর শৈশব কেটেছে পিতা গিয়াসুদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৃহত্তর সিলেটে ও ভারতের বর্তমান মেঘালয় ও আসামরাজ্যে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হলে আসাম থেকে তারা সপরিবারে পূর্বপাকিস্তানে চলে আসেন। নেত্রকোনার আঞ্জুমান হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক আর ঢাকা কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ইন্টারমেডিয়েটে উত্তীর্ণ হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৫ সালে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে তিনি ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে যোগদান করেন। এরপর পাকিস্তান সরকারের হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশেও তিনি দক্ষ ও যোগ্যতার সঙ্গে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালন করেন।
দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত লন্ডনে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার ছিলেন তিনি। ১৯৭৬ সালে আবুধাবিতে, ১৯৭৮ সালে বেলজিয়ামে, পরবর্তীতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮২ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওআইসির চতুর্দশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলন এবং ১৯৮৫ সালে প্রথম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের সমন্বয়ক ছাড়াও তিনি জাতিসংঘ এবং অন্যান্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থায় দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৮৪ সালে তিনি পররাষ্ট্র সচিব হন। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।
সাহিত্যের প্রতি ছোটকাল থেকেই ঝোঁক ছিল ফারুক চৌধুরীর। তার প্রকাশিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘জীবনের বালুকাবেলায়’ বইটি শুধু কূটনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ দলিল নয়, বাংলা গদ্যসাহিত্যেরও অনন্য সংযোজন। এই বইয়ের জন্য ২০১৪ সালে পেয়েছেন আইএফআইসি ব্যাংক পুরস্কার এবং ২০১৫ সালে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার। কূটনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা এবং জীবনকালে ব্রিটিশ শাসন থেকে পাকিস্তান এবং তারপর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের গুরুত্বপূর্ণ পালাবদলের প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, অনুভব তিনি বইটিতে তুলে ধরেন।
দেশ দেশান্তর, প্রিয় ফারজানা, নানাক্ষণ নানাকথা, স্বদেশ স্বকাল স্বজন, সময়ের আবর্তে ইত্যাদি তারই লেখা বই।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D